Thursday, 16 March 2017


নাম ধরে তার
ডাকলে পরে
বকুল ফুলের গন্ধ আসে।
কামিনী আর হাসনুহানার
ছোঁয়া তাতে।
গভীর রাতে স্বর্ণচাঁপার পাতার মাঝে
নাম না জানা কোন সে পাখি
তীব্রস্বরে ডাকতে থাকে।
মধ্যরাতের অকালধারায় সিক্ত
গাছের
পাতার থেকে
টুপুসটাপুস জলের ফোঁটা
ঝরতে থাকে।
আকাশ বাতাস অন্ধকার আর
আলোর রেখা
সবাই মিলে
কেমন আমায় জাগিয়ে রাখে।
বাগান জুড়ে তাল তমাল
সোঁদাল জারুল ছাতিম কাঁঠাল
চালতা তেঁতুল জাম আর আম
পেঁয়ারা আর জামরুল গাছ
নিঝুম রাতে অন্ধকারে
গভীর সুখে
ঘুমিয়ে থাকে।
আমার চোখে ঘুম আসেনা,
নিকষকালো অন্ধকার ই
চোখের ওপর
কাজল হয়ে লেগে থাকে ,
আমি ফুলের গন্ধ পাই,
ঘুম আসে না আমার চোখে
তাই তো জেগে রই।

সোহাগে
সোহাগে এত ঢল নামে,
পর্বত কন্দর হয়ে বিভাজিকা
বনমাঝে,
রিনিঝিনি বলয়ে মালাতে
কেন বাজে!
শিউলির গন্ধ বড় মৃদুভাষী,
নয় সে তো বকুলের মত
সর্বত্রগামী কিম্বা কামিনীর মত
হঠাৎ ই সরব হওয়া নারী,
যদিও রূপসী,তবু কি
কোথাও কোন ঘনঘটা
অকালে ঘনায় মাঝে মাঝে,
এরপরে কি আছে কপালে
কার ও কি কখনো জানা থাকে?
ভাল লাগা ভালবাসা
ইতিহাস বলে নাতো,
কখনো তা দেখা গেছে
মাধু্রীলতার মত জড়িয়ে
রেখেছে মন
সুধা হয়ে পাকেপাকে,

শরীরের ভালবাসা শরীরে
লুকিয়ে থাকে জানো কি?
কখনো কখনো তা যে
শিশিরে শয্যা পাতে,
আলোকিত নদীতটে
ভালোবাসা কখনো বুঝি
ঢেউ হয়ে ভেঙ্গে পড়ে,
সাগরগৌরব কেন শঙ্খশুভ্র
হয়ে বাজে নীরবে সরবে।
মীনরঙ্গ ঝাঁপিয়ে পড়ে
শফরীপ্রসাদলাভে,
সোনালী ডানার চিল
শিকারের মহোৎসবে মাতে,
হঠাৎ ই দোলায় হাওয়া
সজল গাছের সারি,
ঘূ্র্ণিহাওয়ার ফাঁকে
শ্বাসযতি হয়ে আসে
বিন্দুবারি,
ভাবিনি কখন ও মন
ভিজে যাবে বেণোজলে,
আনাচেকানাচে পড়ে ছিন্নপত্র
রাশিরাশি ,
নিদাঘে অগ্নিদাহে ছাই হয়ে
ঝরে পড়ে,
বৃক্ষতলে উপবিষ্ট
অনাবাসী
নীলকন্ঠ ,
বড় ই অসূয়া তার বিষ ছেড়ে
অমৃতশয়ানে।
মন্থনে পেলে কি তুমি?
পারিজাত না অমৃতকলস?
নাকি হলাহলে পূর্ণপাত্র
পানশেষে ,
কন্ঠ অতি নীল!
নাকি
নীল সমুদ্র ভাসে
নীলাভ আকাশে,
নীলাদ্রির পাশে,
নীলিমায় নীল।
সঘন আবেশে!

কালিকাপ্রসাদের স্মরণে::

অন্ত বসন্তে মৃত‍্যুর হাহাকার
ভাল তো লাগে না আর
দোতারাটা হল চুপ
চারিদিকে ভেজা চোখ
আর দশদিক নিশ্চুপ,

অঘটন আজ ও ঘটে
জানো কি তোমার নামে
অভিযোগ কত আসে?
অভিমান কত জমে?
কত কিছু লেখা আছে
কাগজে কলমে সে যে!
তবুও তো এতোদিন
আশায় আশায়
ধরেছি তোমার হাত
ধরে থাকি যতদিন
ধরে রাখা যায়।
তবু আজ দিনশেষে
খোলা চিঠি রোদ মেখে
তোমাকে দিলাম
ভাল করে পড়ে দেখো
যাবে কি যাবে না ভেবো
আমি শুধু ভালোবেসে
স্বর্গের ঠিকানা দিলাম।
রইলাম আশায় আশায়।

ভ্রমরার কালো জলে
ঢেউ তোলে কি বিষাদে
বসন্তবিলাসী ঝড়
একরাশ এলোমেলো
ঝরে পড়া তরতাজা
হলুদ ফুলের স্বাদ
তোমায় দিলাম।
রয়েছি তোমায় ছেড়ে
অনেক অনেক পল
যতটুকু ছেড়ে থাকা যায়।
আমি বড় অসহায়
শুধু
রয়েছি তোমার আশায়

যদি নতনাসা হয়ে নাও ঘ্রাণ
আকাশে হারাবে প্রাণ
অনায়াসে ,
ঢেউ এর পর ঢেউ
হেঁটে আসে
অনায়াসে অক্লেশে,
কেন আসে?
দোলা দেয় কাকে?
আমি ভালবেসে স্নিগ্ধ হলাম।

কৃষ্ণ আকাশ জুড়ে
জলভরা ভিজে মেঘ
ঝরালো অশেষ ধারা
এলোমেলো ছুড়ে ফেলা
একরাশ বিজু্রিরেখা
ছুঁড়ে ছুঁড়ে তোমায় দিলাম।
যদি নতজানু হয়ে
নাও তুমি শ্বাস
তবু তো কোথাও কোন
বাড়েনা সুবাস,
নই নেশাহীন প্রাণ
আমি নেশায় নেশায় তবু
বিবশ হলাম।
তোমার ই ছায়ার পাশে
আমার ছায়াটি ভাসে
আমি ছায়া হারালাম।

থৈ থৈ জলে ভাসে
বসন্তবিলাপি ধরা,
কাগজের নৌকায়
একরাশ ফুল গুঁজে
তোমাকে দিলাম।
তুমি যে মধুর বড়ো
আজ বুঝলাম।
আমি যে মুগ্ধ হলাম।

যদি কাছে এসে দুহাত বাড়াও
দিশাহীন হবে মোর প্রাণ,
চৈত্রের মাঝপথে
বেহাগে বাঁশরী বাঁজে
সুরে সুরে সেজে ওঠে প্রাণ,
এলোমেলো হাওয়া চলে
বাতাস ভিজেছে জলে
সোঁদা সোঁদা গন্ধ পেলাম।
তখন ই দেরী না করে
গোধূলির আলোমাখা
যত গাছ মাঠঘাট
সহজ সরল গাছ
কিছুটা সরিয়ে রেখে
ভাল করে ধূলো মুছে
বাকিটা তোমায় দিলাম।
ভাল করে ছুঁয়ে দেখো
অনেক ই অসুখ যাবে,
নাহলেই নষ্ট এ সুনাম।

হঠাৎ ই আঁধার নামে
রাস্তায় আলো জ্বলে
ধোঁয়া ধোঁয়া ল্যাম্পপোষ্ট
নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে,
কেউ তো ডাকে না কাছে
আনমনা একেলা এ মন,
চারিদিক মায়ামায়া
আকাশে জ্বলেছে তারা
দূরাকাশে অগনিত,
দুধসাদা ছায়াপথ
জ্বলজ্বলে তারাসহ
তোমাকে দিলাম।

বহুদূরে মরুপথে
কখনো যে ঝড় ওঠে
খেজুর গাছের সারি
মিঠেজলভরা কূপ
মরুদ্যান সহ আজ
তোমাকে দিলাম,

আকাশে ব়াঁশীর সুর
ওঠে পড়ে মধু ঝরে
সকল গানের সুর
কিছুটা সরিয়ে রেখে
একটু আতর মেখে
ধুয়ে মুছে তোমায় দিলাম।

এত কিছু নিতে গেলে
কতটা বিষয়ী হবে মন,
অবিরত পেতে পেতে
চাইতেই ভুলে যাবে,
পেতে পেতে ভ্রষ্ট এ জীবন।
এ জীবন তোমাকে দিলাম।

অসহ নিশীথ কেন অমানিশা
হয়ে নেমে আসে
ক্ষয়াটে চাঁদের ছায়া ঘন কালো মেঘ
হয়ে আকাশের কোণে ভেসে থাকে!
নিঝুম রাতের গান কোন সু্রে বাঁজে
কুয়াশা কি বোবা হরিণের মত
চলাফেরা করে,
কুয়াশা ছড়ায় কোন মায়াবিনী চাঁদ,
আবিল আঁধার কেন শিশিরের জলে
ধুয়ে ফেলে রাত,
জন্ম নেয় ভোর আকুল আবেগে,
মোহময় ছায়া ছায়া
অশরীরি বাতাসে মেশা
রুপকথা
সত্যি কোন শরতের সকালে
গৃহস্হের অঙ্গনে আলপনা হয়ে নেমে আসে।
তুলসীতলার পাশে
পাঁচালী বা ব্রতকথা পড়ে নারী,
লালপাড় শাড়িটির ভাঁজে ভাঁজে
কল্পনার সু্রে আশা বাঁধা থাকে
এমন ই দিনেই বুঝি পোষা পায়রার
ডাকে সুখগৃহ গন্ধ মাখা থাকে,
সবুজ ধানের ক্ষেত এলোমেলো
হয় মলয়প্রহারে,
ফিঙে্র দোসর
হয় ছাতারে্র দল,
দুধারে জলার মাঝে রাতচরা বালিহাঁস
শেওলায় মুখ গুঁজে থাকে,
আকাশের গায়ে একঘেয়ে বৃত্তাকারে
ঘুরে মরে চিল,
মেঘ ছুঁয়ে উড়ে যায় বুনো হাঁস
পরিযায়ী পথে,
কতকাল ভিজে মেঘ বরষাকৃপণ
ঝরে পড়ে বকুলকামিনী হয়ে
ঘাসের উপরে।

মরাই এর ধান ,ফসলের ক্ষেত,
কাকতাড়ুয়ার ম্লান মুখছবি,
উজ্জ্বল রোদের
তাপে ঘামে ভেজা শিশুদের মুখ,
মিলেমিশে শরতের আগমনীসুরে
বাঁধা প্রতিমার কাঠামোয় ঘেরা
বাংলার সুপ্রাচীন মুখ।