Wednesday, 15 February 2017


এখনও তো স্মৃতিকথা
অমলিন আছে।
হাতের কাজের বোঝা
সরিয়ে রাখো তো।
এসো, বোসো পাশে।
সময়ের বাঁকে বাঁকে
একটি একটি পাতা
গুঁজে রাখা আছে।
কত স্মৃতি গল্পগান
ভালোবাসাবাসি হয়ে
মিশেছে যে তাতে।
আজকের দিনমানে
অনেক ঘটনা ঘটে যাবে,
ছুঁড়ে ফেলো পাশে,
স্মৃতিভারে অবনত হয়ে
বৃক্ষে বৃক্ষে যত
কথা জমে আছে,
পৃথিবীর কোনো গাছে
এতো ফল
ফুলদশা পার হয়ে
ফোটেনি তো আগে!

কি পেরেছো তুমি?
কিই বা পেরেছি আমি?
শ্রাবণের সেই রাতে
চোখে চোখ পড়বার আগে?
সবুজ মাঠের ঘাসে
নীলাভ ফুলের মায়া
শতাব্দী প্রাচীন হতে পারে,
অপচয় হয় তা তো...
রোজকার ঘনঘটা পার হ'তে ,
সাহস কে করেছে আগে
বনবীথি পার হয়ে
ফুলদল পায়ে দ'লে
সবুজ ঘাসের মাঠ
পাড়াতে পাড়াতে,
বয়ে যাওয়া অচিরাবতীর
ওই দারুময় সাঁকো
পার হতে??

বীতরাগ হয়েছি
কি আমি?
নাকি তুমি অর্হতের পথে,
আমরা কি
কখনো চেয়েছি উপলবর্ণা
বা বিশাখার মত
উপসম্পদা পেয়ে
হেলায় হারাতে?
বলো তো আমাকে!
বলো যদি জানা থাকে!

অনুকূল তিথি ছিল,
পৌর্ণমাসী ছিল,
উজ্জ্বল প্রভায় মেতে
শারদসন্ধ্যার কোলে
চন্দ্রপ্রভা মেখে,
প্রতীক্ষায় ছিল
মাঠঘাট তরুময় পটভূমি,
কি ভেবে?
বলো তো আমাকে!

তুমি কি শেখাবে কোনো
অনাগত বিধিবানী?
জীবন যে সপ্রভ থাকে
চেতনার বাঁকে।
শিখিনি কিছুই আমি,
শুধু শিখি, জীবন যা কিছু
শেখায় আমাকে।।।।

সময় রয়েছে দেখো
বেহিসাবী মাতালের মত,
কে ই বা পেরেছি
ওই শিউলির মত
ভোরের বাতাসে মিশে যেতে??
আজ ও তো তোমার কাছে
কত কি শেখার আছে,
শিখিয়ে দিও তো শুধু
চোখ মেলে ওভাবে তাকাতে!
দীর্ঘবেণীর দোলে সংহারের শেষে
কে পেরেছে চাওয়া পাওয়া
এভাবে দোলাতে??
একটু হৃদয়ধ্বনি
শিখিয়ে দিও তো তুমি
কেমনে বাজাতে হয়
বলয়ে মালাতে।।।।
ভালোবাসা যায় কত...
কতদূর যাওয়া যায়
দিশা খুঁজে পেতে?
শিখিয়ে দিও তো তুমি
কখনো আমাকে,
কি নেশার ঘোর থাকে
ঘোর অন্ধকারে,
যদি আলোর রেখার সাথে
বেজে ওঠা ধ্বনি থাকে
সপ্রভ কৃষ্ণা হয়ে,
দৃষ্টি থাকে অবরুদ্ধ,
মনের জানালা সব
বন্ধ হয়ে
ইচ্ছা শুধু জেগে থাকে।
কিভাবে জানাবে আমাকে?
প্রসারিত হাতে যদি
শুকনো বকুলরাশি
ম্লানগন্ধ বয়ে আনে
জ্বলে যাওয়া স্মৃতি থেকে,
একটু শিখিও তুমি
এমনও বিরসদিনে
ভালোবাসা যায় কত
শিউলির আশা নিয়ে বুকে!
শেখাবে আমাকে?
বলো যদি কিছু জানা থাকে!

ওই তো খুলেছে দোর
কাটেনি তো বিহ্বলতা
কাটেনি কাটেনি ঘোর,
কৌতূহলী বিশাখার মত
হৃদয় চেয়েই শুধু থাকে।
সারিবদ্ধ পথ বেয়ে
গৈরিকবসনবন্ধ
ঋত্বিকের দল আসে।
কারা আসে??
ঐ আলোকবন্যায় সব ভাসে।
বীরললিত তিনি
সহজাত
ঊষ্ণীষবদ্ধ,
দীর্ঘ সুগৌর
সপ্রভ বুদ্ধ,
কামনারহিত প্রাণ দেখে
কত প্রাণে কামনা যে জাগে!
স্বেদাক্ত বিশাখা তুমি
ললাটে কপোলে সর্বদেহে!
কামনাপ্রভাসে!
এ কি ঋদ্ধি, নাকি সমর্পন?
একি সহজাত প্রেম?
বাসনায় সিক্ত অঙ্গরাগে,
বিশাখা বণিক কন্যা
বিদূষী বৈদূর্যসত্ত্বা,
কত যে পুরুষ শুধু
চেয়েছে তোমাকে
শুধু অবহেলা পেতে!
তুমি কি বুঝেছো আজি
প্রণয়ভিক্ষু হলে
যথার্থ হৃদয়ে আসে
বেদনা তরলরাশি
শোণিতপাতের মত
ঝরে কিছু দুঃখ বিন্দু
অশেষ,,,, অবিরাম ,
আবেগে আঘাতে।
হায় রে বিশাখা তুমি
ভেবে দেখো ভাল করে
ভালবাসো কাকে?
যদি পারো জানাও তাহাকে!

নবজাত:

নবজাত প্রেম কেন
কবচকুন্ডল হয়ে
আমাকে জড়ায়,
তোমার আমার মাঝে
খরস্রোতা নদী বয়ে যায়,
সহজাত সেতু আছে
অন্তর্লীণ কোথায় কোথায়,
এমন কি আছে কেউ
ঢেউ ভেঙ্গে সেতু খুঁজে দেয়?
তোমার আমার মাঝে
কতকথা বেঁচে আছে,
কত আশা মিশে আছে
কত বেদনায়,
তবুও তো দেখা হলে
চোখের তারার নীচে
আলোকবিন্দুর সাথে
কৃষ্ণগহ্বর ভাসে,
যা কিছু হৃদয়ে থাকে
সবকিছু অন্ধকারে
কেন ঠেলে দেয়?
এখন ও মেঘের পাশে
গাঙচিল ভেসে থাকে,
দূ্রগামী বুনো হাঁস
পথ যে হারায়।
সাঁকো বাঁধো
ভগীরথ,
ভাগীরথী বেগে বয়ে যায়।
পার হয়ে স্রোতস্বিনী
পার হয়ে কূলপথ
উপলখন্ডময়,
রাখবো পায়ের ছাপ
পর্ণকুটীরদ্বারে
অঙ্গনে আশায় বসে
থাকবো অনন্তবাসী
জলপাত্র নিয়ে হাতে
অঞ্জলি ভরে তুমি দাও।
প্রিয়ম্বদা !সেতু বেঁধে দাও,
বসিয়ে রেখো না আর
আশায় আশায়।
ভাগীরথী ভরে আছে
কানায় কানায়।
তোমার আমার মাঝে
খরস্রোতা অমৃতধারা
অবিরাম বয়ে চলে যায়।

জলশহর:৬

কখনো কখনো প্রেম যেন
সনির্বন্ধ অনুরোধ হয়ে আসে,
যখন তখন ভাবায় আমাকে,
স্বীকার করাটা কি দায় হতে পারে?
বকুলের ফুল কখনো কখনো
ঝরে পড়ে ঝাঁকে,
হঠাৎ মোহের বশে
কি করে দুহাত দিয়ে
জড়াই তোমাকে??

ষান্মাসিক পরীক্ষা শুরু হবার আগেই শেষ হল 1974 বিশ্বকাপ ফুটবল।কিছু রেডিও, অনেকটা খবরের কাগজে পড়ে ফেললাম নতুন ধারার ফুটবলের জনক রেনাস মিশেলের দল হল্যান্ড আর কিংবদন্তী ফুটবলার যোহান ক্রুয়েফের গল্প।সারা পৃথিবী কাঁপছে প্রেসিং ফুটবল(আজকাল অনেকে টোটাল ফুটবল ও বলেন।) এর জোয়ারে।মুখে মুখে ফিরছে আর এক নায়ক বেকেন বাওয়ারের দল জার্মানীর বিশ্বকাপ জয়ের গল্প।জুলাই মাসের তেরো তারিখ ইংল্যান্ডে ভারতীয় ক্রিকেট দলের 42 অলআউট।লজ্জায় মুখ ঢাকতে হয়।জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পরীক্ষা শেষ।কয়েকদিন ছুটির পর ক্লাস শুরু।
সকালবেলায় কয়েকদিনের আলস্য ছেড়ে সময়মত উঠতে হয়।আবার সেই পুরোনো রুটিনে ফিরে যাওয়া।10.25 স্কুলের গেটে পৌঁছে সাইকেল স্ট্যান্ডে রেখে বেরোতেই ঘন্টা বাজে।প্রেয়ার শেষ হতেই পি টি শিক্ষক চিত্তবাবু কিছু একটা গিয়ে প্রধান শিক্ষককে বলতেই তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি দেন।কে জানতো তখন সাদা জামা কালো প্যান্টের ইউনিফর্ম চেকিং শুরু হবে!!বেড়াজালে ধরা পড়ি নানা ক্লাসের অনেক ক'জন।চিত্তবাবু এসে বেত উঁচিয়ে উপদেশ দিতে দিতে দুচার ঘা লাগিয়ে দেন।আমি ভালোমানুষের মত দাঁড়িয়ে থাকি।আমার সামনে দাঁড়িয়ে মনোজ।চিত্তবাবুর বেত পড়তেই সে মুখ খুলল,
"ড্রেস তো পরেছি স্যার।"
চিত্তবাবু যুগপৎ রাগ ও কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করেন,
"তুই কি অন্ধ নাকি?চোখের সামনে দেখছি কোনো প্যান্ট পরিসনি!!"
মনোজ বলে, "পরেই তো আছি।"
চিত্তবাবু সমান জেদি!
"তবে দ্যাখা".... দু ঘা বেতও পড়ল সজোরে।
"উঃ" "আঃ" করতে করতে মনোজের উত্তর, "নিচে পরেছি তো!"
চিত্তবাবুর চোখ উল্লাসে চকচক করে।
"দ্যাখা তবে"
মনোজ বুঝতে পারে চালে ভুল হয়েছে।সে মিনমিন করে বলে,
"না মানে স্যার ,,আন্ডারপ্যান্টের মতো।"
চিত্তবাবু সগর্বে ঘোষনা করেন,
"আজকে যখন তোর দাবীমত ওটাই ড্রেস, তবে ওটা পরেই ক্লাসে যা।এখন ফুলপ্যান্ট খোল।"
মনোজ গাঁইগুঁই করলেও লাভ হয়না কিছু।চুলের মুঠি ধরে দু চারটে কিল পিঠে পড়তেই সে ফুলপ্যান্ট খুলে ফেলে।এবং স্যার তৎক্ষণাৎ ওটা বাজেয়াপ্ত করে নিজের কব্জায় নিয়ে নেন।
আমরা বাইরে সারিবেঁধে দাঁড়িয়ে থাকি।
মনোজকে টানতে টানতে নিয়ে উনি ফার্স্ট বেঞ্চে বসিয়ে দেন।মনোজের লজ্জাহরণ করে চিত্তবাবু বীরদর্পে প্রস্হান করেন।
প্রথম ক্লাসে তপনবাবু বাংলা পড়াতে এসে চমকিত হন।এবং সমস্ত বিবরণ শুনে নির্বিকার মুখে মনোজের কান ধরে বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন।আমি নিশ্চিত কমনরুমে ফিরে উনি বেশ একচোট হেসে নিয়েছিলেন।রাগ করিস না মনোজ,আমরা ও খুব হেসেছিলাম।আজ ও হাসি।ক্লাস শেষে তপনবাবুর প্রস্হান এবং রোজকারমত করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হেডস্যার সুজিতবাবুর চোখে পড়ে মনোজের বস্ত্রহরণ পর্বের শেষ অংশ।সমস্তকিছু শুনেই কিছু না বলেই ফিরে চলে যান।কিছুক্ষণ পরে দপ্তরীর হাত দিয়ে মনোজের ফুলপ্যান্ট ফেরত আসে এবং পোশাক পরে মনোজ দপ্তরীর পিছু পিছু হেডস্যারের ঘরে যায়।তারপর যথারীতি ক্লাসে এসে বসে পড়ে।ব্ল্যাকবোর্ডের উপর তখন কেউ লিখে দিয়েছে
"চিত্তচাঞ্চল্য এবং
মনোজের পেন্টুহরণ"।যে লিখেছে তাকে আমি খুব অন্তরঙ্গে চিনি।মিচকে শয়তান।তাই নাম বলতে পারব না।
মনোজের নতুন নামকরণ হয়ে যায়
"আন্ডারপ্যান্ট"

####################

প্রথমদিনের স্কুলের পালা শেষ হতেই দল বেঁধে বেড়িয়ে পড়ি।জলশহরের আবহাওয়ায় এখনও বর্ষার ছোঁয়া।শিবজিৎ এগিয়ে আসে।বলে, "চল আমার সাথে।"
আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে চাইতেই বলে,
"চল কেস আছে"..... আমি হেসে ফেলি।
স্কুল থেকে বেরিয়ে হাকিমপাড়া হয়ে আমরা পৌঁছে যাই করলা ব্রিজের সামনে।বিকেলের আলো ম্লান হয়ে এসেছে।আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখানে একটু পরেই সাদা শাড়ি লাল পাড়ের ঢল নামলো।স্কুল ছুটির পর একঝাঁক পরীর দল বাড়ি ফিরছে।এমনিতেই অকারন কলহাস্যমুখর মেয়েরা রাস্তার পাশে দুই অপোগন্ডকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছু একটা আঁচ করে হাসির বন্যায় ভেসে যেতে লাগলো।শিবজিৎ নির্বিকার।আমার দুই কান গরম হয়ে উঠতে থাকে।কিন্তু কি ইই বা করার আছে তখন!!একটু পরে দুটি অতীব সুশ্রী মেয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো পথ বেয়ে।শিবজিৎ একটু এগিয়ে গিয়ে ওদের একজনকে কি যেন বললো।সেও হেসে কিছু বলতে শিবজিৎ ভাঁজ করা একটি কাগজ এগিয়ে দিল।এবং অপরপক্ষও কিছু বিনিময় করলো।ওদের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি আমার মুখের ওপরে।শিবজিৎ কিছু বলতেই ওরা মিটিমিটি হাসতে লাগলো।তারপর একরাশ হাল্কা সুগন্ধ আর হাসি ছড়িয়ে দুজনে এগিয়ে গেলো।শিবজিৎ বললো "ওর নাম সুরলেখা।কেমন লাগলো রে?"
বললাম, "ফাটাফাটি"।
শিবজিতের চোখে মিনতি....
"প্লিজ কাউকে বলিসনা"।
হেসে বললাম, "মরে গেলেও না।আপাতত চল।পেটে আগুন জ্বলছে।" কাউকেই বলিনি তবে খুব জানতাম
শিবজিৎ অনেককেই বলেছে।
ব্রিজ পেরোতেই আরেক স্কুলে সাদা সবুজ পাড়ের ঢল।নাকি স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা করছে?সাদা নীল নয়ত?!!শিবজিৎ একদিকে চলে গেলো, আমি অন্যদিকে।
বাজারের পাশ দিয়েএসে সোনাউল্লা স্কুলের পাশে শিববাড়ির রাস্তায় পড়তেই সাদা কমলা পাড়ের ভিড়ে সেই কন্যার দেখা।বেল বাজাই দূর থেকে।একরাশ বিরক্তি নিয়ে সে ফিরে তাকায়।চোখে চোখ পড়তে বিরক্তি মিলিয়ে ঔসুক্য ফুটে ওঠে তার প্রসন্ন শুচিস্মিতা চেহারায়।আমি উদাসীন মুখে পাশ কাটিয়ে চলে যাই।বুঝতে পারি একটা কোমল দৃষ্টি আমায় অনুসরন করছে।
না........... চোখ মেলে আর ফিরে দেখা হয়নি।কেন, কে জানে!

"বকুলের ফুল কখনো কখনো
ঝরে পড়ে ঝাঁকে
হঠাৎ মোহের বশে
কি করে দুহাত দিয়ে
জড়াই তোমাকে??"

ঋতুচক্র ঘুরতে থাকে।আকাশ নির্মল নির্ভার হয়ে ওঠে।সাদা কাশফুল ফুটতে থাকে।পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘ পাখির মত উড়তে থাকে।পুকুরে শালুক ফুল ফুটতে থাকে।বকুল মালতীরা গন্ধ ছড়ায়।অকালবোধনের প্রতিমা রূপ পেতে থাকে।পুজো আসন্ন।হেমন্ত আসে।পিছে পিছে আসে শীত।বসন্ত আসে মাতাল সমীরণে।বেগুনী জারুল,হলুদাভ সোঁদাল,রক্তবর্ণ কৃষ্ণচূড়া হয়ে।পিছনে পিছনে অগ্নিভ গ্রীষ্ম।আমগাছ ফলের ভারে নুইয়ে পড়ে।যুঁই মল্লিকা মালতী দামিনী মাধবীলতা পলাশ কাঞ্চন কুন্দ রঙ্গনের গন্ধ ছড়ায়।এক অমল কৈশোর যৌবনের আগমনী শুনতে পায়।আমি কে, কি চাই, কোথায় যাই ,,,ভাবতে ভাবতে পা বাড়াই।এক অনির্দেশ্য গন্তব্যের দিকে চলতে চলতে রূপ রস গন্ধে ভরে উঠতে থাকে জীবন।কিন্তু জলশহরের অমলিন দিনগুলি মনের ভিতর ফুটেই থাকে।দিনযাপনের আনন্দগ্লানি তাকে ম্লান করতে পারেনা।সে ফুটেই থাকে জীবনভর।আর জীবনের সহস্র আঁকেবাঁকে নতুন থেকে নতুনতর রূপে ভেসে আসে।

$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$

দিগন্তে আলোর রেখা
মধ্যাকাশ মেঘে ঢাকা
সামনে পড়ে যে পথ
কেবল ই চড়াই,
বলো এতদূর পথ
আমি একা একা
কি করে, বলো
কি করে যাই!
বেহাগে সানাই বাজে
আঁধারে পথে্র দিশা নেই,
বলো এতখানি পথ
একা একা,
আমি কেমনে পেরোই?
তবু তো এমন ই হয়,
আসন্ন হলে শেষ,
লয় কেটে চারিধারে
প্রলয়ের আভাস আসে,
সেতারে দীপক বাজে,
জ্বলে সব ছাঁই ।
প্রতিধ্বনি বলে
কিছু নাই,
কি ই বা করার আছে!
ঝমকে পায়েল বাজে,
কোথা যাই,
তারচেয়ে এই ভালো
ভেজা চোখ মুছে ফেলে
শতধাবিভক্ত হয়ে
শতজন শতদিকে
চলো যাই।
না হলে,
কিই বা করার আছে?
শুধু মোহবশে,
দুই হাত দিয়ে,
কি করে তোমাকে জড়াই!
এতখানি পথ
তোমাকে ছাড়াই,
একা একা
কি করে পে্রোই?
চলো দূ্র হতে
আরো দূ্রে
চলে যাই।

ঠিকানাতে অনেক ই ভুল থাকে,
ডাকপিয়ন ও পায়না খুঁজে তাকে,
অনেক কথা লেখা চিঠি ঠিকানাতে
যায় না যেমন,
শ্রাবণমেঘের মতো
অনেক কথা বুকেই জমে থাকে,
মুখের কথা শুনতে চেয়ে
অনেক শ্রবণ রাত্রি জেগে থাকে,
অনেক নয়ন নিদ্রা হারায়,
ভাল ই হবে বলার মত সাহস
যদি থাকে,
জলের রেখা হারাবে না পথ
শুকনো নদীর বাঁকে,
হৃদয়রেখা সহজ দিশা ই পাবে।