এখনও তো স্মৃতিকথা
অমলিন আছে।
হাতের কাজের বোঝা
সরিয়ে রাখো তো।
এসো, বোসো পাশে।
সময়ের বাঁকে বাঁকে
একটি একটি পাতা
গুঁজে রাখা আছে।
কত স্মৃতি গল্পগান
ভালোবাসাবাসি হয়ে
মিশেছে যে তাতে।
আজকের দিনমানে
অনেক ঘটনা ঘটে যাবে,
ছুঁড়ে ফেলো পাশে,
স্মৃতিভারে অবনত হয়ে
বৃক্ষে বৃক্ষে যত
কথা জমে আছে,
পৃথিবীর কোনো গাছে
এতো ফল
ফুলদশা পার হয়ে
ফোটেনি তো আগে!
কি পেরেছো তুমি?
কিই বা পেরেছি আমি?
শ্রাবণের সেই রাতে
চোখে চোখ পড়বার আগে?
সবুজ মাঠের ঘাসে
নীলাভ ফুলের মায়া
শতাব্দী প্রাচীন হতে পারে,
অপচয় হয় তা তো...
রোজকার ঘনঘটা পার হ'তে ,
সাহস কে করেছে আগে
বনবীথি পার হয়ে
ফুলদল পায়ে দ'লে
সবুজ ঘাসের মাঠ
পাড়াতে পাড়াতে,
বয়ে যাওয়া অচিরাবতীর
ওই দারুময় সাঁকো
পার হতে??
বীতরাগ হয়েছি
কি আমি?
নাকি তুমি অর্হতের পথে,
আমরা কি
কখনো চেয়েছি উপলবর্ণা
বা বিশাখার মত
উপসম্পদা পেয়ে
হেলায় হারাতে?
বলো তো আমাকে!
বলো যদি জানা থাকে!
অনুকূল তিথি ছিল,
পৌর্ণমাসী ছিল,
উজ্জ্বল প্রভায় মেতে
শারদসন্ধ্যার কোলে
চন্দ্রপ্রভা মেখে,
প্রতীক্ষায় ছিল
মাঠঘাট তরুময় পটভূমি,
কি ভেবে?
বলো তো আমাকে!
তুমি কি শেখাবে কোনো
অনাগত বিধিবানী?
জীবন যে সপ্রভ থাকে
চেতনার বাঁকে।
শিখিনি কিছুই আমি,
শুধু শিখি, জীবন যা কিছু
শেখায় আমাকে।।।।
সময় রয়েছে দেখো
বেহিসাবী মাতালের মত,
কে ই বা পেরেছি
ওই শিউলির মত
ভোরের বাতাসে মিশে যেতে??
আজ ও তো তোমার কাছে
কত কি শেখার আছে,
শিখিয়ে দিও তো শুধু
চোখ মেলে ওভাবে তাকাতে!
দীর্ঘবেণীর দোলে সংহারের শেষে
কে পেরেছে চাওয়া পাওয়া
এভাবে দোলাতে??
একটু হৃদয়ধ্বনি
শিখিয়ে দিও তো তুমি
কেমনে বাজাতে হয়
বলয়ে মালাতে।।।।
ভালোবাসা যায় কত...
কতদূর যাওয়া যায়
দিশা খুঁজে পেতে?
শিখিয়ে দিও তো তুমি
কখনো আমাকে,
কি নেশার ঘোর থাকে
ঘোর অন্ধকারে,
যদি আলোর রেখার সাথে
বেজে ওঠা ধ্বনি থাকে
সপ্রভ কৃষ্ণা হয়ে,
দৃষ্টি থাকে অবরুদ্ধ,
মনের জানালা সব
বন্ধ হয়ে
ইচ্ছা শুধু জেগে থাকে।
কিভাবে জানাবে আমাকে?
প্রসারিত হাতে যদি
শুকনো বকুলরাশি
ম্লানগন্ধ বয়ে আনে
জ্বলে যাওয়া স্মৃতি থেকে,
একটু শিখিও তুমি
এমনও বিরসদিনে
ভালোবাসা যায় কত
শিউলির আশা নিয়ে বুকে!
শেখাবে আমাকে?
বলো যদি কিছু জানা থাকে!
ওই তো খুলেছে দোর
কাটেনি তো বিহ্বলতা
কাটেনি কাটেনি ঘোর,
কৌতূহলী বিশাখার মত
হৃদয় চেয়েই শুধু থাকে।
সারিবদ্ধ পথ বেয়ে
গৈরিকবসনবন্ধ
ঋত্বিকের দল আসে।
কারা আসে??
ঐ আলোকবন্যায় সব ভাসে।
বীরললিত তিনি
সহজাত
ঊষ্ণীষবদ্ধ,
দীর্ঘ সুগৌর
সপ্রভ বুদ্ধ,
কামনারহিত প্রাণ দেখে
কত প্রাণে কামনা যে জাগে!
স্বেদাক্ত বিশাখা তুমি
ললাটে কপোলে সর্বদেহে!
কামনাপ্রভাসে!
এ কি ঋদ্ধি, নাকি সমর্পন?
একি সহজাত প্রেম?
বাসনায় সিক্ত অঙ্গরাগে,
বিশাখা বণিক কন্যা
বিদূষী বৈদূর্যসত্ত্বা,
কত যে পুরুষ শুধু
চেয়েছে তোমাকে
শুধু অবহেলা পেতে!
তুমি কি বুঝেছো আজি
প্রণয়ভিক্ষু হলে
যথার্থ হৃদয়ে আসে
বেদনা তরলরাশি
শোণিতপাতের মত
ঝরে কিছু দুঃখ বিন্দু
অশেষ,,,, অবিরাম ,
আবেগে আঘাতে।
হায় রে বিশাখা তুমি
ভেবে দেখো ভাল করে
ভালবাসো কাকে?
যদি পারো জানাও তাহাকে!