Wednesday, 12 April 2017


অন্তরঙ্গে অনেক কথা জমেই থাকে
তেপান্তরের মাঠের কথা,
বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ
ভাসে যে,
সাতভাই চম্পা পাহারা যত ই দিক
ঘুম নেই পারুলের
ধুকপুক করে বুক।
সকাল বেলায় উঠতে হবে,

সবার নজর এড়িয়ে
সিংদুয়ার টা পেরিয়ে
নামতে হবে পথে
একটু দূরে দাড়িয়ে আছে
কোঁকড়াচুলো রাজকুমার
শুকনোমুখে।
ঘুম ভেঙ্গে যায় বারেবারে
জানালা দিয়ে ঝুঁকে থাকে
মাধুরীলতা,
রাতের তারা জ্বলতে থাকে
আর কি ছুঁয়ে দেখা যাবে কুয়োর পাড়ের দড়ি বাঁধা
বালতিখানা !
আর কি যাবে তুলসীতলায় প্রদীপ জালা!
ছুঁয়ে কি আর দেখা যাবে
নিজের ঘরের খাট,পড়ার টেবিল!
দেখা যাবে গানের খাতা,
হারমোনিয়াম,
সাজিয়ে রাখা মাটির পুতুল,
বসার ঘরের কাঠের সোফা,
বড় ই প্রিয় খাওয়ার টেবিল !
ওইখানেতে ইজিচেয়ার,
ওইখানেতে জানলা দিয়ে চোখে পড়ে
সবুজ বাগান,
ঘর পেরিয়ে একটু হেঁটে
পার হয়ে যাই ফুলের বাগান,
পূব আকাশে ফুটছে আলো,
বেরিয়ে পড়ি ভরসা করে,
হাত বাড়িয়ে ধরতে হবে
নূতন জীবন।
অনেকগুলো মুখ দেখা যায়
সবাই খুশী,
রাজকুমারের মুখ জুড়ে সেই লাজুক হাসি।
একটু পরে ম্যা্রেজ অফিস
অল্পকিছু হাসি কথা
অল্পকিছু সইসাবুদ
সামান্য কিছু পাত পেড়ে খাওয়া
কিছু মিষ্টিমুখ,
তারপরে শুরুর শুরুটা করে সবাই
ফিরে চলে যায়,
আমি আর রাজকুমার একটা
বাসে চেপে বসি শেষবেলায়
রাজপুরী যেতে হবে,
জানি সেখানে হয়তো
রয়েছে ফুলমালা
জোড়া বালিশ
বরণডালা
সুগন্ধিশয্যা,
হয়তো রান্নাঘরের কয়লার উনুন
কুয়োর পাড়,
ধোঁয়া, টিনের চালে বৃষ্টি
আর হাওয়ার ভেজা গন্ধ।
বাড়িতে সবাই খুঁজছে আমায়,
মা কি কাঁদছে?
বাবা কি ইজিচেয়ারে বসে?
ভাইরা,দাদু ঠাকুমা !
বিছানাটা আমার টানটান করে পাতা থাকতো,
ভাই এসে হঠাৎ চিৎপাত হয়ে শুয়ে পড়তো
আর
আমার বকুনি খেয়ে মিটিমিটি হাসতো,
খেতে বসে বায়নাক্কা জুড়লে মা বকতো,
কাকিমা বলতেন,"আরে থাক থাক",
ভালবাসো সবাই
কিন্তু নিজের মত করে,
সব উপহার সুন্দর হলেও কাজে লাগেনা
সব ভালবাসা পেলে কি লাভ
যদি না সেটাই আমি চাই!
কেন কেউ ভাবলে না
আমি যে কি চাই?

আমার মালঞ্চ ছেড়ে আসতে হলো,
পথ ভেজা
সব কেমন অগোছালো,
অভিমানে পাথর হয় ভিতরের মন,
খোলা চোখে জ্বালা ধরে,
যেতে কেন হয় এত দূ্রে,
মনে কেন লেগে থাকে
বিষণ্ণ ওম,
পাহাড় সমুদ্র ছেড়ে
কুঁড়েঘরে যাই,
সুখ আছে বসে
জানালার পরে,
মলয়বাতাসে কিছু কথা শুনি,
কাঁধের পরেতে মাথা রেখে
এখন ঘুমাই।

সূর্য ডোবে ,
অন্ধকারে ঢাকে চরাচর,
সন্ধ্যা চেয়ে থাকে রজনীর পানে,

সময় হয়েছে

বিদায় নেবার।

রজনী এসেছো তুমি,
তারাদের নিয়ে,

সন্ধ্যা তাই

দূরে সরে,

দিন তাই এক হলো
তরুণী তোমাতে।
সন্ধ্যার অমতে।

রজনী তুমি
কেন যে অধীর হলে?
চাঁদ না হয়
কত কথাই তো বলে,

ওহে রাত ...

মেঘলা আকাশে

চাঁদেরে না পেলে,
মুখ কেন তোর কালো?
যামিনী ,,তুমি কি দিনকে
বেসেছো ভালো?
আমি জানি,
পাগল হয়েছো তুমি,

পাগল যে

দিন ও হলো,,

দেখো,
সন্ধ্যাকে
পাশে ঠেলে,
দিন

আসবে তোমায় নিতে,

বড় ভালোবেসে,

সব বাধা ঠেলে,
অক্লেশে অবহেলে।
রাত তুমি দিবসের বড় প্রিয়
ফুরালে প্রহর হাত ধরে তার
দিনমানে মিশে যেয়ো,

নাহয় ভোরের আলোয়,
মিশে যাবে
কিছু আঁধারমায়া,
জোৎস্নারাতের কালো,
এই করেছো ভাল
নিঠুর হে

এই হলো খুব ভালো ।

অনন্তধারায় কিছু বয়ে বয়ে যায়,
ভেসেছি হঠাৎ যেন বিষাদের নীল যমুনায়,
প্রয়াত হয়েছে আশা থেমেছে যে ঘনঘটা,
শিশিরশয়ানে গেছে প্রচ্ছন্ন পরিভাষা,
মধুপানে কেটেছে কি হতাশা দ্বিধায় মেশা
জীবন একেলা কারো ,হতাশা কি ঢাকে নেশা?
বিষন্ন সাঁঝের বেলা জ্বলেছে নিঃশব্দে দীপ,
লাভ কি হয়েছে কিছু তাতে?
আলোও আঁধারে ঢাকা,একথা বুঝেছি আমি আজ,
অনেক দূরেতে ছিলে
,প্রচ্ছন্ন সুবাস হয়ে,
ফিরেছো বলেই তুমি
বৃষ্টি ফেলেছে আজ শ্বাস,
তোমার দৃষ্টিতে মাপি থাকে যদি কিছু আশা
জড়ানো লতার মত দুলেছে আকাঙ্খা যত
হবে কি হবে না ভেবে করেছি কি শুধু পরিমাপ?
তুমি কাছে আসার পরে
অনেক কিছু ই দেখি ঘটে,
শুনতে পাও কি
ডাকছে কোথায় ইষ্টিকুটুম?
দেখতে পাও কি
বৃষ্টি ঝরছে বুকের মাঝে ?
বুকের মধ‍্যে ঝাপটে ডানা ইচ্ছে পাখি
খুঁজছে কাকে?
কেউ জানে না!
কিসের পরে কি ঘটেছে কেউ জানে না,
কেউ কি বোঝে স্বপ্ন কেন ভগ্নডানা?
ভেঙ্গে পড়ে তাসের বাসা বাঁধ মানেনা,
উদ্ধত ওই বাতাস এসে
হঠাৎ থামে কেন?
চলে যাওয়া উচিত এখন
তাও বোঝে না!
বুকের মধ্যে ইচ্ছেপাখি মেলছে ডানা
তাও জানে না?

উত্তরদিশায় চলে
প্রেয়সী বাতাস,
নগ্ন বৃক্ষ প্রতীক্ষা
অধীর,
আলিঙ্গনে স্তব্ধ হয়
শ্বাস,
বৃক্ষ জুড়ে বহমান
কামুক মলয়,
মেঘলা নেশার ঘোরে
উতলা আকাশ,
মরুৎ মায়াবী হয়,
সজল শাখার পরে
জুড়ে থাকে ব্যাকুল
বসনহীনা প্রেয়সীর শ্বাস,
অধীর কানন জুড়ে
হাহাকার কেন?
কঠিন হয়েছে কি প্রিয়
হৃদয়ের ফাঁস?
উতলা হলো কি হায়
কোকিল কৃষ্ণকালো,
বেঁচে থেকে কে মেটালো
প্রণয়ের আঁশ?
ফিরে গেছে কারা যেন
অচিরাবতীর জলে,
তাপ্তি বয় খরবেগে
জনপদত্রাস,
কারা যেন পথ চলে
অনন্ত অভিযানে,
অধিকার চাই তার
যুবতী ধরা র,
ধরণী ছলনাময়ী
সতত অধরা
তিনি,
প্রসারিত বাহু তার
সতত ই বহুগামী,
বেঁধে রাখে বাহুডোরে
এ সাধ্য কার,
প্রণয় তো মিছে শুধু
জমানো আবেগ কিছু,
দেহকামনার খেলা
মধুর অপার।
প্রয়াস জটিলতর
স্বপ্ন প্রায় সুমদির,
অচেনা নেশার ঘোরে
পতন সমূহতর,
অন্ত্যমিল নয়
আসন্ন,
বিরহকাতর,
শুধু অস্তগামী অর্কপ্রভ
মলিন,
নিঃসঙ্গ বধির,
ফলতঃ
দৃষ্টি আচ্ছন্ন,
তবু বর্ণময়।

কোন এক রৌদ্ররাঙ্গা সকালে
ঘুম থেকে উঠে দেখি
বাতাসে ধোঁয়ার গন্ধ,
চোখ জ্বালা করে ওঠে,সাফাইকর্মীরা
কেউ পাতাঝরা বসন্তমর্মরের ধার ধারে না,
আকশি দিয়ে টেনে জমা করে ছিন্নপত্র
স্তুপাকৃতি বসন্তবিলাসে অগ্নি প্রবিষ্ট হয়
দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে ঝরাপাতার স্বরলিপি,
কৃষ্ণধোঁয়ার স্তম্ভ উথ্থিত হয় সরলরৈখিক চলনে
আকাশপানে বার্তা যায় অগ্নি রেখার বিপর্যয়ের,

খোলা জানালার ফাঁক দিয়ে ধোঁয়া আসে আর ও,
আমি জানালা দিয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখতে চাই
আমার চির আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে কিছু ধরা পড়ে না
আমি নেমে আসি রাস্তায়
সেখানে মলয় বাতাসে চন্দন গন্ধ নেই
আছে উড়ে যাওয়া ধূলো ,পাতা ,শুকনো ফুল,
আছে রোদে গরম হয়ে ওঠা ধোঁয়ার গন্ধ
ফুটপাথের চা,তেলেভাজা,চাউমিন
আর লাল কাপড়মোড়া হাড়িতে রাখা
বিরিয়ানি,পুরভরা কচুরি,পেটাই পরোটা,
ব্যস্ত পথিকের আনাগোনা ফিরিওয়ালার
কর্কশ চিৎকার,"কাগ,,,,,,জ,পুরোনো কাগ,,,,জ",
পুরোনোকাপড়ওয়ালা
মাছওয়ালা,সব্জিওয়ালা,শিলপাটাওয়ালা,
সমবেত ঐক্যতান পেরিয়ে এগিয়ে যাই,
সামনের বাড়ির দেওয়ালে ঝুলে আছে
মাধবীলতা,বোগেনভিলিয়া
উষ্ণ বাতাসে দোলে গন্ধরাজ,অপরাজিতা
ছাতিমতলায় ঝরে পড়া ফুল
সোদাল জারুল কৃষ্ণচূড়ার
রংবাহার বেরিয়ে রাস্তার দুপাশে
জীর্ণপ্রায় দুই বাড়ির অঙ্গনে
জবা,রঙ্গন,কামিনীর মেলামেশা
বারান্দায় পোষা সারমেয়র ডাকাডাকি
রাস্তার পাশে জমে থাকা জলে
কাকশালিকের গঙ্গাস্নান
সামনে পরিত্যক্ত বাড়ির উঠোনে
স্তুপাকৃতি শুকনো সেগুনের পাতা
অযত্নে বেড়ে ওঠা করবী রঙ্গন কাঠটগরের
পাতা ফুল ,আশপাশে হাল্কা পায়ে ঘোরে
একজোড়া ঘুঘু,ছাতারের দল।
ঘুরে বেড়ায় পীতপদ,বুলবুলি,ফিঙে
কলাবতীর ঝোপে বাসা বাঁধে মৌটুসি
নারকেলগাছে্র ডালের পত্রছায়ায় বসে থাকে চিল
কার্নিশে চড়ুই আর পায়রার দল
কেয়ারী করা রাস্তার টানা ইঁটের টুকরোয়
শ্যাওলা,নুড়িপাথরের চাদর পাতায় ঢাকা
ভাঙ্গা কার্নিসে পায়রার বাসা,
কখন ও কখন ও হঠাৎ ই সামনে আসা
ব্যতিব্যস্ত কাঠবেড়ালীর জুড়ি,
নিঃসঙ্গ আমকাঁঠালের পাশে সহজসরল
নারকেলসুপারীর দল হাওয়ায় দোলে।
রোদ একটু কড়া,বাতাসে বাস্পের ছোঁয়া
পায়ের তলায় শুকনো পাতার ভেঙ্গে
যাওয়ার শব্দ,জুতোর তলায় পিছলে যায় নুড়িপাথর,
কালো পিচের রাস্তায় পিছলে যায় গাড়ি,
তীব্র হর্নে্র শব্দ,ক্যাঁচকোচ ব্রেকের আওয়াজ।
স্কুলের সামনে ভিড় ভরা রাস্তায় তাড়াহুড়ো,
শহর আবার চলছে নিজে্র গতিতে নিজের মত,
পিঁছনে পড়ে থাকে মৃত্যুর মিছিল
ভেজাচোখ আর অসহায়তা,
এ জীবনে স্মৃতি ইতিহাস ,হয়ে যায়
বাতাসে সত্য শুধু শিউলীর গন্ধ।
বসন্তে পাতা সব ঝরছে অযত্নে
বসন্ত তোমার শ্বাস ধোঁয়ায় রূদ্ধ ।
রেডিও তে সানাই এর সুর
আর আমার রাস্তায় অলৌকিক সুর
বাঁশিওয়ালার,
শহরের ইতিকথা অসমাপ্ত পালাগানের
মত ,যেন ধারাবাহিক আসর হয়েও
মূল গল্পে কোন ধারাবাহিকতা নেই।
আকাশ পরিষ্কার নীল
দুএকটুকরো হাল্কা মেঘ মানচিত্র বা
ছবি আঁকে,কে জানে কি!
কালিদাসের মেঘদূত বা বাখের ইলিউশন!
এলোমেলো হাওয়া শ্বাস ফেলে
মাপা পদক্ষেপে ঘুরে বেড়ায়,
অঙ্গনে কি শিরীষশাখায় দোল লাগে,
স্বপ্ন কি দিগন্তজুড়ে ছড়ায়
কথোপকথন কি আবার শুরু হয়
ফোটে কি কদমফুলে্র স্বপ্ন,
অনেক ফুল ফুঁটে কি আজ চিরবসন্ত
বনবীথিতলে আবার পথ খুঁজে পায়
আশায় আশায়।
একঝাঁক পলাশ ঝ‍রে পড়ে পিচের রাস্তায়
পশ্চিম আকাশ লালে লাল
বাসন্তীমায়ায়
একোন নেশায় আজ মন লঘু হয়ে আসে
একঝাঁক বুনো হাঁস পথ হা্রায়।

মনের কোনে বন্যা এলে
ছড়ায় পলিমাটি,
উর্বরতা বাঞ্ছিত নয়
শয্যা পরিপাটি,
দর্পণেতে প্রতিবিম্ব
চোখের কোলে কালি,
সাতটি সাগর পার হতে চাই
উড়ান ভরে খালি,
দুজন না হয় সাঁঝবিকেলে
বসবো মুখোমুখি
আয়না যদি চূর্ণ করো
অন্ধ হবো আমি !
অন্ধকারের উৎস থেকে
বেরিয়ে এলে আলো,
বিবাদ ঘুঁচে সন্ধি হলে
বিচার পুরো হলো,
তোমার সবুজ আমার ভুবন
আমার নয়ন তোমার আসন
আমার ঠোঁটের এই কুঞ্চন
তোমার কপোল ছুঁলো,
দশদিগন্ত লুপ্ত হয়ে
আমার নয়ন তোমার চোখে
পলাশবনের অলীক মায়ায়
আমার ছায়া আবার খুঁজে পেলো।
ফসল ওঠার সময় কি আজ হলো!
ও মেয়ে তোর কোথায় গেল দেবদারু চুল?
ভুরুর পাশে কাঁকন যখন রক্ত মাখে
প্রেমহীনতার বন্ঞ্চনাতে
নিষ্ঠুরতার অসন্মানের
তীব্র অভিঘাতে,
হাহাকারে তীক্ষ্ণ হয়ে নখর বাজে,
কিসের আশায় সঁপেছিলি নিজের
করা সমস্ত ভুল
স্বপ্ন ভেবে,
হায় নারী তুই কোমল মাটি
প্রচ্ছন্ন ফুল,
মুচড়ে দলে ফেলছে যাকে
মনবদল আর অঙ্গীকারের
মিথ্যে মায়া,
ও মেয়ে তুই
ভুলিস না রে,
এবার যে তোর ছড়িয়ে মালা,
হিসেব নেবার দিন এসেছে,
সাহস করে একটু এগো
একটু চোখে
ক্রোধের কাজল পর,
দিন এসেছে কর না কেন
পথবদল,
কালির ফোঁটা মুছে ফেলে
করালী হও,
রাজপথেতে ছড়িয়ে ফেলো
মুন্ডমালা,
আর বেণী নয়
হোক তো এলোচুল,
বাজুক মাদল
চুল খুলে ফেল,
বাঁধবি তখন
যখন ভয়ে,
নিকষকালো অন্ধকারে
ফের লুকোবে আঁধারদানোর দল।

কখনো কখনো আমি একটি মানুষ
দ্বিধায় দ্বিধায় দুই হয়ে রই,
শতধাবিভক্ত মন হয় নাকি
শতাবধান তো আমি নই!
তবুও অক্লেশে মন
আলোকসম্ভব হয়ে
নিমেষে জ্বলেছে উঠে,
আমি চোখ মেলে যতোটা বুঝেছি,
তাতে আমি কিছু ফেলে দিয়ে
অনায়াসে কিছু ধরে রই।
শাওনের শেষরাতে
এখানে ওখানে বাঁজে
টুপটাপ পড়ে যাওয়া
বৃষ্টির শেষ কিছু সুর,
আমিও বেঁজেছি সুরে
কৃপণ বরষা যেন
শেষটা হিসেব করে,
শরৎ কেবল তার
দুহাত বাড়ায়,
মনে তার নেই ক্লেশ
সে কেবল ভরে দিতে চায়,
যেখানে যা নেই কিছু
সেখানেই ছোঁয়া তার
দুহাত ভরায়,
মনে কি বেঁজেছে বীণা
হাওয়ায় হাওয়ায় ।

সবই উঠেছে জেগে,
আকাশ বাতাস,
ধূলিধূসরিত ছোটবড় গাছ,
ফুটপাতে জেগে
চায়ের দোকানী,
জেগেছে অভাগা শিশু,
আমি ও জেগেছি একটু আশায়,
যেতে চাই দূরে
যত দূরে যাওয়া যায়,
কিছুটা আশায় কিছুটা ব‍্যথায়,
পার হবো সেতুবন্ধ যে কত
পার হয়ে যাবো তীর্থ,
মোক্ষ চাই না
বিনাশ চাই না
মৃত‍্যূর আগে জেনে
যেতে চাই
বেঁচে থাকবার অর্থ।