Thursday, 8 June 2017


ছুঁড়ে ফেলে দাও
শান দেওয়া লোহা
ছুরি,
মানুষের বুকে না বসে
না হয় সেটা
ফসলের জমি চষুক।

এখানে সময় এসে
থেমেছে মনের পাশে,
উচাটন মন আর কিই বা করে ?
সময়ের সাথে শুধু কথা হয়,
ওই তো নদীতে ভাসে
বরষার ফুল স্রোতময়,
বাস্পের নেশা এসে
ভেজা ভেজা চোখ ছুঁয়ে,
মাতায় পাহাড়ব্যাপী
ভাঙ্গনের খেলাশেষে,
নগ্ন শিখর হাসে
সুকঠিন সুপ্রাচীন
শিলাময়।
সময় থেমেছে আজ
কে কোথায়?
মনের গভীরে কিছু
আঁধারের খেলা চলে,
রক্তিম আলোছায়া
কোমল মৃদুল,
আঙ্গুল বাড়িয়ে দিলে কি কঠিন ভুল,
সহসা বাতাস বয়
আবেশে আকুল,
স্পর্শহীন অবয়ব রোদে কাঁপে,
জলের উপরে হাওয়া
মরীচিকা হয়ে শুধু
দোলা দেয়,
কেন দেয়?
সরে সরে যায় কেন
দূর বহুদূর ?
বাতাসে ভেসেছে কেন
ছিঁড়ে যাওয়া সুর?
দৃষ্টি শুধু মধ্যমায় ঠাঁই নেয়
পথহারা নাকি?
গভীর শ্বাসের ছোঁয়া
পেয়ে কি অধর আরো
রক্তিম হয়?
হতাশা ঘনায়,
আঁধার চুলের নীচে,
কুয়াশা কোথায়?
পেলব গ্ৰীবার পরে
একটু ছুঁয়ে ই থাকা
বৈকালী রোদের ছায়া,
শুষে নিতে মগ্ন মৃদু
ধূপছায়াময় বেড়া,
অনতিঅজানা কোন
কোমল ফুলের মত
পিপাসী এ কর্ণমূল,
নগ্নতায় শুধু
বিভঙ্গ হারায় পথ
সহসা মৃদুল।
সহসা ঝড়ের হাওয়া
গান গায়,
তরুণ তরুর নীচে
সবুজাভ
ছায়া ভাসে,
সুরের পতন ঘটে
হাওয়ায় হাওয়ায়,
চটুল মনে্র খেলা
পল্লবিত গল্পকথা,
কে কাকে হারায় বলো !
ধরে কি রাখার কথা,
যা যাওয়ার তাতো চলে যায়,
অঙ্গরাগে বর্ষারেণু
বসন্তে হলুদ কেন হয়?
কথোপকথন বুঝি
শুরু হয়?
আগত গ্ৰীস্মের দিনে
রঙের কি নিবিড় জ্বালা,
আশাবরী রাগ শেষে
চন্দ্রোদয়,
বাতাস বয়েছে বেগে,
শুকনো পাতার স্তুপে
আগুন লেগেছে যেন
সমস্ত দিনের শেষে,
কালাতিপাতের চেয়ে
দুফোঁটা জলের ধারা
কতটুকু পারে বলো
পাতা থেকে মুছে নিতে
পুড়ে যাওয়া স্মৃতিরেখা,
ওড়ে ধূলো ওড়ে ছাঁই
কত যে হারাই জানি
আগলে রাখতে আর
কতটুকু বলো পারি,
মৈনাকের মগ্নতা
কি দুঃখ ময় |

এখানে পাবে কি তুমি
নিশ্চিন্ত জীবন?
ধূলোতে ঢেকেছে
পথ
জীর্ণ পরিসরে
ভাঙ্গা অন্তহীন,
একটু সবুজ আছে
এখন ও যদিও বেঁচে,
ক্লান্ত তাও
ধূলিতে মলিন।
আকাশ যদিও নীল,
আঁচড়ের দাগ রেখে গেছে
ধূসর মেঘের দল,
জল কিছু কম ছিল,
প্রদূষণ
ছিল তীক্ষ্ম নখের মতন,
তুলে দিয়ে গেছে আকাশের
ত্বক,
দৃশ‍্যমান ধূসরাভা
শুস্ক সনাতন,
নীল আকাশ বলে কি
আর
কিছু,
আছে কি এখন?
এই তো হঠাৎ করে
আগ্রাসী হয়েছে মেঘ,
পুন্ঞ্জীভূত মধুময়,
হঠাৎ জলের ছোঁয়া
কেঁপে তো উঠেছে
যত সরল সবুজ গাছ,
ফিরেছে সুদিন,
এখানেই পাবে তুমি
নূতন মেঘের ছায়া,
সবুজাভা পাবে ঘাস
নীল তো আবার পাবে
ফিরে,
ধূসর এ আকাশ,
স্বপ্নাবিষ্ট দিন।

সৌজন‍্যে:মহীনের ঘোড়ার একটি চ‍রণ

কত কি করার আছে বাকী,,
এজীবনে যত ই
কেননা আমি হাঁটি,
ফুরোয় না চলার পথ
বনপথ পড়ে আছে,
পড়ে আছে ঝরা পাতা
অজানা ফুলেরা রাশিরাশি,
এই মন
উদাসী হাওয়ার হল সাথী,
কত কি করার আছে বাকী,,

কল্পনা ৫:
অজানেয় অশ্ব অশ্বপালকের সঙ্গে অশ্বশালার অভিমুখে অগ্রসর হল। উজ্জ্বল আলোকে তার সিক্ত শরীরে লেগে থাকা জলবিন্দু দর্পণের মত ঝলমল করে উঠলো। নবীন যুবক পত্নীর করধারণ করে অবকাশগৃহের দিকে অগ্রসর হলেন।উপলবিস্তৃত উদ্যান পথ তরুলতামন্ডিত আচ্ছাদনে ঢাকা।বরষাবিন্দুর ক্ষণিক উঁকিঝুঁকি ,বর্ষা পুলকিত সুবাসিত বাতাস সর্বাঙ্গে স্নেহপরশের রোমাঞ্চ জাগায়।
মেঘবালক আর মেঘবালিকার দল পুঞ্জীভূত মেঘের মত নবদম্পতিকে ঘিরে ধরে উচ্চকিত হাসিতে বিস্ফোরিত হয়ে উঠলো।তাদের সেই কৌতুকবিস্ফোরিত হাসি অনুচ্চ রঙ্গকোলাহলের মত নবদম্পতির শ্রবণে মধুপগুঞ্জনে্র মত ভেসে এলো।তারা চকিত হয়ে আর কিছু শুনবার আশায় উন্মুখ হয়ে উঠলেন।মেঘবালক বালিকার দল সতর্ক শৃঙ্খলায় নীরব হয়ে একটু ঘনীভূত হয়ে উঠলো আর নিঃশব্দে নবদম্পতির দৃষ্টিসীমার অতীত হলেন।নববধূর সমস্ত শরীরে মনে বাতাসে মিশে থাকা এক অচেনা নির্মল অস্তিত্বের এক অপার্থিব আভাস এক অচেনা ঐন্দ্রজালিক রাগের মত বেজে উঠলো।দয়িতের করধারণ করে তিনি বলে উঠলেন,"জানো কেউ যেন আছে।অনন্ত অনুরাগের ভান্ডার নিয়ে কারা যেন দাড়িয়ে আছে।ও্ররা সেই অমৃত আমাদের দিতে চায়।"
স্বপ্নাদিষ্টের মত যুবক বলে উঠলেন,"চলো আমরা সেই মধুভান্ডের জন্য প্রার্থণা করি।আজ আকাশ বাতাস ভূলোক দ্যূলোক স্বর্গ মর্ত্য পাতাল মধুময় হোক।মধুবর্ষণে নদীভান্ড উছলে উঠুক।পূ্র্ণ হোক জলাধার সরোবর কূপসকল।পর্বতশিখরে বিদ্যুৎ ঝলসাক।নতশির বৃক্ষরা স্নাত হোক।বৃক্ষতলে তৃণপুস্পের মেলায় বরষাশেষে মধূপ ভ্রমর প্রজাপতি পতঙ্গে্র ক্রীড়াস্থল হয়ে উঠুক।আর এই মধুচাঁদের আলোয় বরষাবিরতিতে এসো আমরা সেই অপার্থিব আনন্দময় আর আনন্দময়ীদের আনুকূল্য প্রার্থণা করি।"
এই বাক্যালাপের মধ্যে তারা উদ্যানপথ অতিক্রম করে উদ্যানবাটিকার সোপানে পা রেখেছেন।পরিচারক পরিচারকেরা সহাস্যমুখে তাদের চন্দনসুরভিত অঙ্গবস্ত্র দিয়ে অভ্যর্থণা করলো।অবকাশগৃহের অভিমুখী পথ আলপনা চিত্রশোভায় শোভিত।একটু হেঁটে তারা কক্ষে প্রবেশ করলেন।সুসজ্জিত কক্ষে উজ্জ্বল দীপালোকে দেওয়ালগাত্রে অঙ্কিত মধ্যদেশীয় শিল্পীর অপূর্ব নিসর্গচিত্র।এককোনে রাখা গন্ধপ্রদীপের উপর একমুঠো চন্দনচূ্র্ণ নিক্ষেপ করে পরিচারিকারা চলে গেল।কোমল চন্দনবাসে বাতাস আমোদিত হয়ে উঠলো।বধূ স্নানকক্ষের দিকে অগ্ৰসর হলেন।
এমন সময় পরিচারিকা এসে এক বার্তাপত্র যুবকের হাতে তুলে দিল।অঙ্গবস্ত্র উন্মোচন করে যুবক অন্যমনস্কভাবে পরিচারিকার দিকে তাকালেন।সে অঙ্গ বস্ত্র নিয়ে যুবককে জিজ্ঞাসা করলো,"অকালবর্ষণের ধারায় সিক্ত হয়েছেন।একটু উষ্ণ পানীয় দি?" যুবক
সম্মতিসহকারে শিরসঞ্চালন করে পত্রে দৃষ্টিপাত করলেন এবং চমকিত হয়ে উঠলেন। যুবরাজ স্কন্দগুপ্তের পত্রাদেশ।কটিদেশে অসিবন্ধন করে উষ্ণীষ পরিধাণ করে সুন্দর তালি বাজালেন।পানীয়পাত্র নিয়ে পরিচারিকা প্রবেশ করলো।পানীয়ে এক দীর্ঘ চুমুক দিয়ে সুন্দর বললেন,"সম্রাটের মন্ত্রণাকক্ষে যাচ্ছি।দেবিকে জানিও"।অশ্বপালক গৃহদ্বারে।"চিত্রককে প্রস্তত করেছি।" সুন্দর খু্শী হলেন।
শিক্ষিত অশ্ব চিত্রক।ধীর পদক্ষেপে উদ্যানগৃহ অতিক্রম করে বাইরে এলো।তারপর দ্রুত গতি বাড়ালো।সুন্দরের প্রভু কোন অজুহাত সহ্য করেন না।কালক্ষেপ পছন্দ করেন না।
আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা।প্রমত্তপদসঞ্চারে দিকপালেরা মরুৎ ও পর্জণ্যদেবের সহায়তা করছেন।ইন্দ্রদেবের বজ্রনিক্ষেপ শুরু হতেই অশনিআঘাতে কেঁপে উঠলো নগরপরিসর।রক্ষীরা চমকিত হয়ে আচ্ছাদনের আশ্রয় নিলো।মেঘবালক বালিকারা অশনিআলোকে চমকিত হয়ে দেখল নবীন যুবক দ্রুত অশ্বচালনা করে রাজসকাশে চলেছে।প্রবল বরষায় আচ্ছন্নদৃষ্টি অশ্ব ধাবমান।রাজপথের আলোকমশাল নির্বাপিতপ্রায়।মেঘবালকেরা সন্তর্পণে সুন্দরকে ঘিরে ধরে তেজবৃষ্টি ও বায়ুর প্রভাব নিয়ণ্ত্রণ করলো।সহসা আচ্ছন্নদৃষ্টি পরিস্কার হতে যুবক আশ্চর্য হলেন।তারপর ভাবলেন যে আজ গোটা দিনটাই আশ্চর্য চমকে ভরা।

নববধূ স্নান শেষে ফিরে এসে শুনলেন যে রাজকার্যে যুবক নিস্ক্রান্ত হয়েছেন।প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত।পরিচারিকা পানীয় এনে দিলে বধূ হৃষ্টচিত্তে পান করলেন।তারপর জানালার কাছে দাড়িয়ে বরষাবিজড়িত আকাশে বিদ্যুন্মালার সঞ্চারণ দেখতে দেখতে শিহরিত হলেন।তার প্রফুল্ল হাসির ছোঁয়া মেঘবালিকাদের অন্যমনস্ক করে তুলল।উচ্চ আকাশের বরষারঙ্গ ছেড়ে তারা অবকাশগৃহের জানালার সামনে নেমে এলো।অন্যমনস্ক বধূ সহসা মেঘের স্নিগ্ধসুবাসে আহ্লাদিত হয়ে উঠলেন।ধীরে ধীরে তিনি মেঘদূতম কাব্যের পূ্র্বমেঘ পর্বের আবৃত্তি করতে লাগলেন।পরিচারিকারা এই চমৎকার ছন্দসুরের মায়ায় আবদ্ধ হয়ে নিঃশব্দে অপেক্ষা করতে লাগলো।মেঘবালিকার দল স্তব্ধবিস্ময়ে যক্ষের বিরহকাতর আক্ষেপের অংশীদার হয়ে উঠলো আর পরস্পর বলতে লাগলো,"হায় যক্ষ,বিগতমহিমা হয়ে ও তুমি কি প্রেমে মগ্ন।ধন্য তোমার প্রিয়া যিনি তণ্বী শ্যামা মধ্যে ক্ষীণা স্তনেরভারে ঈষৎ অবনতা শিখরীদশনা,।তোমার নির্বাসনকাল অতিক্রান্তপ্রায়।মিলনমেদুরকাল আসছে।"
আবৃত্তি করতে করতে বধূর পূ্র্বকথা স্মরণে এলো আর সুদূর দক্ষিণদেশে তার প্রাসাদগৃহ,সখীদল,অনুজ,পিতা,পিতামহী,সর্বোপরি তার মায়ের কল্যাণস্পর্শ স্মরণে এসে অশ্রুবিন্দুর বরষণ শুরু হলো।মেঘবালিকারা পরম মমতায় তার কপোল স্পর্শ করলো।বয়ে নিয়ে এলো বৃষ্টিচ্ছটা বাস্পবিন্দুর মত।বড় মনোরম বড় আনন্দময় এই শীকরস্পর্শ।সমস্ত বৃক্ষপল্লবের সুরভি,সমস্ত স্নাতসিক্ত পুস্পের সৌরভ যেন এক আন্দধারার মত ধেয়ে এসে চারদিক ঘিরে ধরলো।ভূমি সিক্ত ও সরস হয়ে এক স্নিগ্ধ অনন্য মেঠো সুরভির জন্ম দিলো।ধীরে ধীরে মেঘ অবসৃত হয়ে উজ্জ্বল চন্দ্রালোকে জগৎ নিমজ্জিত হলো।মেঘবালিকারা সেই চাঁদের পাশে নেশাগ্ৰস্তের মত ভাসতে লাগলো।মেঘবালকরা কই? এই সামান্য অবকাশে যেন অনন্তবিরহবেদনা তাদের ঘিরে ধরলো।
এই বেদনা যেন অন্যরকম সুরভিতে আমোদিত যা স্বর্গের অনন্তমিলনেও নেই।এযে অসহ মধুর,বেদনাবিধূর।এ বড় দুর্লভ অনুভূতি,নিমেষে হারায়।

সৌজন‍্যে,,,,পার্থ সারথির দ্বৈতচরণ

তোমাকে ছোঁব বলে
যদি হাত বাড়াই
নিবিড় কুয়াশাতেও
জোছনা পাই
যদি বাড়ানো হাত দিয়ে
তোমাকে ছুঁই
তুমুল বিস্ফোরণে
কুয়াশা দূ্রে যায় চলে
বানভাসি জোছনায়
ভেসে যাই।

মানুষের যত ব্যথা
চেতনা আভাসে মিশে,
হিংস্র নেকড়ে্র মুখ নীল হয়ে আছে বিষে,
একটু ফুলের মালা না পেলে কি হোলি খেলা
পলাশ ফুটেছে কম রয়েছে যে মুন্ডমালা !!

ভোমরার জলে লাগে বরষার ঢেউ,
অনন্তবাসনা নিয়ে জ্বলে পুড়ে
খাঁক হয়,
মানুষের মত যেন কেউ।
কালো চুলে আঁধারের শুনশান,
শ্রাবণ আকাশে বায়ু খরশান,
অশান্ত তটিনীর বকলমে শ্বাস ফেলে
কালীয় নাগের মত কালো ঢেউ।
কোথা যাই কিবা খুঁজি দিশা কই
কংসের কারাগারে বাসুদেব
ভেবে যান
অমানিশা শেষ হলে কোথা যাই।

আমার জীবন
তাহার ভুবন,
মিলছে কোথায়
যখন তখন,
ঘনকালো অমানিশায়
পৌর্ণমাসীর ফুল্লবদন,
সদানন্দ জীবনরেখায়
মন্দচলন সমাপতন,
পদ্মগন্ধে মৃগনাভি
মিললো যখন
প্রশান্তিতে অস্থিরতা,
নৃত্যতালে ছন্দপতন।
তোমার জীবন
আমার ভুবন
মিলবে কখন?

বন্ধ্যা ,হয়েছে আঁধার কখন
আলো তো ফোটে না আর
রোদমাখা শীত ভ্রকুটি হারালে
নিদাঘ কি দুর্বার !
স্তব্ধ বিকেলে মরুৎ অধীর
ব্যাকুল অন্ধপ্রায়,
পথ কোথায় যে যায় !
জল ঝরে ভেজে বৃক্ষের শাখা
মেঘ ভেসে যায় আকাশে আকাশে
ক্ষয়াটে চাঁদের হাফ ধরে যায়
অরণ্য নতশির,পাহাড় আয়েশে ঘুমায়,
------–-----////////------------------------//
সন্তর্পণে সন্ধ‍্যা নেমেছে,
কুয়াশা এসেছে বুনো উল্লাসে
হিম গেঁথে যায় প়াঁজরের গায়
বুনো পাখী ওড়ে পাইনে্র বনে
বাতাসের হাহাকার ,
পাখী পথ কেন হারায় ?
----/-//--/////////
বাতাস এখানে থেমে আছে কেন?
নিভে কেন গেল সূর্যের আলো?
আকাশ ভেঙ্গেছে অঝোর ধারায়
অরণ্য ভেসে যায়,
ভিজে ভিজে সারা ঘাসফুল যত
কুয়াশায় শ্বাস নেয়,
বন্ধ্যা হয়েছে আঁধার কখন
দৃষ্টি চলে না হায়,
মেঘের চাদর হাওয়া শুষে নেয়
হিম গেঁথে যায় পাহাড়ের গায়
এ চূড়ায় ও চূড়ায়।
চাঁদ ওঠে ওই
ক্ষয়াটে, প্রবীণ
পূর্ণিমা পান্ডুর ,
ডুবে আছে হতাশায়।

হৃদয় জুড়ে বেনোজলের আনাগোনা
পলিমাটির আস্তরণে ঢাকা সীমা
করতলে ঘাস গজালো
পায়ের নীচে সরষে বোনা
অন্তরঙ্গে ললিতবেহাগ
বহিরঙ্গে দেখাশোনা
সময় এখন বড় ই কঠিন
হাত বাড়ালে শুকনো নদী
দৃষ্টি জুড়ে বালুচরের ঝিকিমিকি
পেরিয়ে চড়া যেতেই পারি
অচেনা কোন রাক্ষসপুর
দেখতে পাব
জ্বলছে চিতা দিবানিশি ধিকিধিকি।
আমার এখন মন ভাল নেই
পরশপাথর হারিয়েছি নিজের দোষে
ক্লান্ত শরীর চাইছে আরাম
সোনা ছাড়া কিনব কিসে!
হৃদয়ে কি ঘূণ ধরেছে
ঝরছে ধূলো
নাকি উঁইপোকাতে স্বপ্ন কেটে
ঝুরো ঝুরো।
ঘাসের পরে রাখছি মাথা
গন্ধ সোঁদা
একপশলা বৃষ্টিতে যে
একটু ভেজা
মাটির পরে রাখতে মাথা
দুচোখ ভারী,
অসীম সুখের ঘুম নেমেছে শরীরজুড়ে,
দমকা হাওয়ায় ঝরছে পাতা,
হলুদ ফুলে ভ‍রছে আঁচল,
পড়ছি ঢাকা অসীম অতল
সর্বনাশা স্বপ্ন দিয়ে
ভরা সুখের চৈত্রমাসে
এই বিদেশে
শেষের আশায়
পত্রমোচী গাছের দেশে।

বাসী হলেও বকুলগন্ধ
অবয়বের আভাস আনে
মেশে ছন্দ
চেনা জীবন বড় ই চেনা
একটু ধন্দ
সংগোপনে বইছে মলয়
মৃদুমন্দ।

ধূসর সত‍্যের যদি মুখোমুখি হই
ঘাড় হেলানোই চাই,
নইলে তো আততায়ী চিনবে তোমাকে!
যদি চোখে প্রশ্ন থাকে
শীতল সত‍্যের যত প্রহরীর দল
চোখে চোখে কথা কবে
নিমেষেই হিসেব তো হবে
ডানা জিভ দুই কাটা যাবে,
রসদের ভাড়ারে্র তালা বন্ধ হবে,
যদি পোষ মানো ময়নার মতো
মিঠে সুরে কথা যদি ছড়িয়েই যাও
তাজ কিছু পাবেই তো
শিয়রের পরে,
জয়ধ্বনি যদি অবিশ্রাম দিতে পারো,
রক্তবর্ণ চোখ শান্ত দৃষ্টি দিয়ে
স্বস্তি দেবে,
সুখ পেতে পেতে
শিরদাঁড়া ইতিহাস হবে
জলজ‍্যান্ত সত‍্য শুধু তাই,
সেই সত‍্য যা ভেবেছে
বিদূষক শত,
শাসনের করাঘাত গ্রহণের মতো,
অন্ধকার নামতেই পারে,
তাকিও দুচোখ তুলে,
ভয় যত থাক
ডানা ঝাপটাও,
উড়তেই থাকো,
নইলে তো অমানিশা ঢেকে দেবে
মূখর এ শহর।
শিরদাঁড়া ইতিহাস হলে
জতুগৃহ হবে এই ঘর।

শঙ্খধ্বনি হোক পথে
সূর্যালোকে ঝলসায় চোখ
বেলাশেষে অন্ধকার দৃষ্টি ঢেকে দেয়
জেগে ওঠে দ্বিতীয় জগৎ,
অন্ধকার বড় শব্দময়
আগতদিনের কোন স্বপ্নমায়া
জীবিত তো নয়,
শু্রু বড় অন্ধকারে ঢাকা
সৃষ্টি নেই সাথে
শূন্য থেকে শুরু হয় সব
মহাবিস্ফোরণে
বিন্দু বৃত্ত রেখা সব মিলেমিশে যায়
বর্ণবিপর্যয় হয়
রঙে রঙ মেশে
শ্বেত অশ্ব অজানেয় হতে পারে
তবু পিঙ্গল ধূসর বা কৃষ্ণবর্ণ
স্পর্ধা কখন ই নয়
দুর্বোধ্য শব্দের কিই বা পরিচয়!
সিন্ধুদেশ মিশর সুমের
ব্যাবিলন,
আলতামিরা ,ভীমদেশ হয়ে
পায়ে পায়ে
চিত্রলেখা ভাবলেখা
কিংবা হেঁয়ালির গল্পকথা
একধ্বনি কিংবা বহুধ্বনি
হয়,
বিবর্তন একমুখী বহুধা
ভূতলিপি বীজলিপি
তন্ত্রাবধান পার হয়ে
অক্ষর থেকে বর্ণলিপি হয়ে
মুখে কথা ফোঁটে
পাথরে পাতায়
মানুষের লেখা শুরু হয়।
শঙ্মধ্বনি হোক পথে
শব্দময় জীবনের
বাঁকে বাঁকে চিহ্ন দিয়ে
লেখায় লেখায়
অনন্তসৃষ্টির শুরু
সৃজনের ধারা
জোয়ারে ভাসায়
মানুষের লেখা শুরু হয়
বড় বেশী আশায় মায়ায়।

সে কোথায় জ্বলেছি
আমি
তোমার দর্শনে
অভাগা অপার,
স্মৃতি সব ধুয়ে গেছে
নিঠুর শ্রাবণে
চিহ্ন নেই তার।
কখন ও বা
পথের কিনারে বসে
শুনেছি তোমার কথা
তোমার ই গান,
অমলিন নয় স্মৃতি
বেশীটাই নষ্ট,ক্ষয়া,ম্লান।
**""""”*******************"
,,,********"""""""""""""""""*****"""""

ক্ষয়ে যাওয়া স্মৃতি বড়
দুঃখভারে নত,
বিনষ্ট দেউল কিংবা বিহারের মত,
রঙিন পালিশ তার মুছে গেছে,
যেন সব বেসুরে সাজানো রাগ,
বিষাদে রাঙানো ছবি,
কাল এসে ধুয়েমুছে নিয়ে
যায় সব,
গতপ্রাণ অতীতের সঙ্গী
শুধু নষ্টস্মৃতি
ভ্রষ্ট রঙ,
দিশাহীন প্রাণ,
অমলিন নয় স্মৃতি
বেশীটাই নষ্ট,ক্ষয়া,ম্লান,
অনুভবে জেগে আছে
ক্ষয়াটে চাঁদের মতো,
তোমার ই বলা কথা,
তোমার ই গাওয়া কিছু গান।

৫০:

৫০ এর পরে
স্মৃতিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে
ফিরে যেতে চাও তুমি
কার কাছে
ফিরে চাও কারে?
কোন অধিকারে?
কড়া কি নেড়েছে কেউ তোমার দুয়ারে?
ভেবে দ্যাখো মধুমাস
কবে গেছে কেটে,
স্মৃতি আর অমলিন নয়,
বয়স রেখেছে তাকে ঢেকে,
তবু জেনো জটিলতা কিছু
জমে আছে,
প্রণয়ের বাঁকে বাঁকে।
যদি থামিয়ে দিতে পারো
মেঘের গুরুগুরু,
জেনো জটিল প্রণয়ের
এই তো সবে শুরু,
যদি মুছেই দিয়ে থাকো
জানালার কাঁচ,
জেনো ফিরে আসার
সেই তো সবে শুরু।
যদি মেঘের পিছনে থাকে
অশনিসংকেত,
জেনো শেষের কবিতার শেষ
যেখানে হলো,
সেখানে পৌছেই
বুক যে দুরুদুরু।