Monday, 30 January 2017


আকাশ প্রণত কেন?
অসময় আগত বলে?
সহজ গাছের দল সরল
কেন যে?
ঝুঁকে থাকা গাছ দ্যাখে
শুধু কি করুণাবশে?
আকাশের ছায়া কেন
নেমেছে বনের মাঝে?

ভাবনা গতির জোরে
হাওয়াকে হারায় হেসে,
কুটিলতা সহজাত
ভাবনার বাঁকে বাঁকে।
ঐতো হিসেবী হাওয়া
বেসামাল ঘূ্র্ণিতে,
হঠাৎ আছড়ে পড়ে
সহজ সবুজ ঝোঁকে।
একটি চিঠি কি আসে
হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে,
ডাকঘর বহুদূরে
কতযুগ কেটেছে যে!
অমল এখনো জেগে
চিঠি তো আসেনি হাতে
যেতে পারি বহুদূরে
বুঝি না
কেন বা যাবো!
কেই বা বলেছে যেতে?
হাতে্র উপরে হাত
কবেই রেখেছি পেতে।
কিশোরী নদীর বুকে
যুবক বটের ছায়া
নিবিড় হয়েছে আশা
কতো জল বয়ে গেছে।
তবু কি বুঝেছি আমি
ধূসর ছায়ার মতো
বনরেখা মিশে যায়
দিগন্ত সবুজ ই থাকে।
আকাশ সুনীল তুমি
বন তুমি ছায়াময়
কেন তবু বৃক্ষজাত
আকাশে জায়ত নয়?
শরীরি প্রাণীর দল
একজোট চলমান,
নেমে এসো একসাথে
একটি ছবির মত
রেখাময় বর্ণমান।
একটু আমার ঠাঁই
হবে কি কোথাও কোনো?
কোন এক ছায়াকোনে
অতীব সন্তর্পণে।
শরীরি ছায়ার ঘ্রাণ
লেগে রবে অন্যমনে।
আকাশ প্রণত কেন?
সময় খেয়ালী বলে?
আকাশ প্রণত আজ
বনবাসী হবে বলে?

এসো হে আমার কাছে
আহত হৃদয়,
পেয়ালায় জল দিই
একটু তো খাও,
পারোতো ধুয়েই ফেলো
রক্তের ছোপ যত,
শাশ্বত ভালো বাসা
কেন ই বা চাও?
তার চেয়ে এই ভাল,
এখন ও তরুণ ই আছো,
খেলাছলে ভালোবাসা
দুহাতে জড়াও,
জেনে রাখো নীলাকাশে
পাখিরা উড়তে আসে,
যদিও জানেই তারা
সময় এমন ও আসে,
ধ্রুবতারা মেঘে ঢাকে,
রোজকার চেনা পথে
কখন ও কখন ও তারা
সবকিছু জেনেবুঝে,
খেলার ই ছলে ই বুঝি
পথ যে হারায়।

ঋতু:

আমরা তো বেঁচে থাকি ছয় ঋতু
বারোমাস
নিদাঘের ঘোর কেটে
বরষাবিলাস।
শরৎ হরষে আসে
হেমন্তে শিশিরে ভাসে
শীতল শীতের কোলে
কাটে পৌষ মাঘ।
বসন্তে পলাশ এসে
ভাসিয়ে দিয়েছে
হাহুতাশ,
আমরা তো বেঁচে থাকি
ছয় ঋতু
বারোমাস।

পৌর্ণমাসী:

পৌর্ণমাসীর চাঁদ যে ছিল
আকাশ জুড়ে
ব্যাকুল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল
শাল তমাল
পত্রছায়া ভেদ করে ওই
জোৎস্নামায়া
ছুঁয়ে ছিল ঘন বনছায়া
আর বৃক্ষতল।
জোৎস্নাধারায় ভিজে মাতাল
একলা এ মন,
চাইছে তোমায়
একেলা কাছে,
মন কেন আর নেই যে বশে,
পেলব মেঘের আনাগোনা
আকাশ জুড়ে,
চাঁদ বলেছে তাড়া কিসের?
একটু থাকো!
দখিন বায়ু অধীর বড়,
বলছে আমায় ,
যাও চলে যাও
ফিরো না আর!

বইছি নিজেই মৃদুলয়ে
ফিরবো না আর?
বাহুলতায় দুলছে যে ঘোর
বনলতা মোহনমায়ায়,
কিসের নেশায়?
অনঙ্গ আজ স্বয়ং বাণে বিদ্ধ
হলে
ত্রিনয়নে দগ্ধ হতে
রইলো কে আর?
কৃষ্ণ কালো বইছে যে জল
ওই ভ্রমরার,
একুল ওকুল দুকুল ভাসে
জ্যোৎস্নাধারায়,
সপ্ততরী ধনপতির বাণিজ্যে যায়,
কে জানে কি আছে সাধুর কপালে,
কমলে কামিনী নজরে এলে যে
ধনমান সাধু সব ই বুঝি যায়।

গহন বনের পরে
বরষা ঘনায়
সরল সহজ সব গাছ
চোখ মেলে চায়,
সবুজ পাতার
ওই সামিয়ানা
সব কিছু ঢেকেছে মায়ায়।
বাতাসে বাস্পের বাস,
মেঘময় নীলাকাশ
কুটিল কুন্তলাভাস,
ঝুঁকে পড়ে বাহু মেলে
জড়াবে সজল শ্বাসে
বনভূমি পথঘাট,
অপার জলের ধারা
ধুয়ে দিতে থাকে শুধু
সেতুবন্ধ নদীঘাট।
আকাশ এখানে নয়
শূন্য পথ,
নির্জনতা ছিঁড়ে ফেলে
সরল সুতীক্ষ্ণ ডাকে
ক্ষেমংকরী তীব্র রাগে,
মীনরঙ্গ মীন লয়ে
পাতার আড়ালে বসে,
গুরুগুরু মেঘনাদ,
তীব্র স্বরে সাড়া দেয়
কলাপীর দল।
বৃক্ষতলে গতিমান কুরঙ্গসদল!
অগ্রগামী ব্যাঘ্রনখ পিছে ধাবমান ,
মৃত্যু আসে
বিজুরী রেখার পথে,
হঠাৎ গতির ফাঁদে একটি জীবন।
বরষা নেমেছে বেগে
রক্তধারা যায় মুছে,
সিক্ত ভূমি বৃক্ষপত্র
সিক্ত বনতল।
গহন বনের পর
বরষা এসেছে নেমে
শীতল সজল।

##ক্ষেমঙ্করী,,,চিল
কলাপী,,,ময়ূর
কুরঙ্গ,,,হরিণ,,,,,,,মীনরঙ্গ,,মাছরাঙ্গা,মেঘনাদ,,মেঘের শব্দ
কুটিল কুন্তলাভাস,,,কুটিল,,কোঁকড়া, কুন্তল,,চুল,,,,কোঁকড়া চুলের মত
সব মঙ্গলকাব্যের বাংলা শব্দ।

ভালবেসেই :

দুহাত পেতে নিয়েছি কি?
নাকি ভালবেসেই প্রসারিত
তোমার দুহাত?
গন্ধরাজে মন ভরে নি
বকুল ই চাই
নাকি রাত পোহালে
ভোরে্র আলোয়
গাছে্র তলায়
শিউলিসুবাস?
তুমি এসেছিলে
বুঝিনি তো,
ছিল না তো কোন ই
আভাস,
তবু কোথায় কেন
অবহেলার ছন্দ ছিল,
একটু কি হায় বাতাস জুড়ে
চন্দনাভাস!
তুমি ফিরে গেলে কেমন করে,
কেন ই বা হায় মুখ ফে্রালে,
দীপ জ্বালাতে ভুলেছিলাম
চাইতে তোমায় ভুলিনি তো,
বাড়িয়ে দেওয়া হাত দেখিনি
ধরার কথা যদিও ছিল;
তুমি একটু যদি সরব হোতে
একটু যদি বিঁধতে আমায়
হয়তো আমার অহং ভেঙ্গে
তোমায় কাছে টেনে নিতাম।
ভুল হতো না কোন ই আমার
হাতে্র পরে রাখতে যে হাত।
জানি ভালবেসেই বাড়িয়েছিলে
তোমার দুহাত,
গন্ধরাজ আর বকুলে তো মন ভরেনি,
চেয়েছিলে অন্যকিছু,
ভোরবেলাতে
শিউলিফুলের
স্নিগ্ধ সুবাস।

বোধি বিফলে যায়,
শোক যদি দিশা পায়
বজ্র কেন স্তব্ধ হয়
আগুনের শিখা কেন
প্রভাহীন হয়ে
বাতাসে মিলায়।
শ্রাবণের ধারাপাতে
ফসলের নেশা থাকে
বসন্তে অকালধারা
কেন শুধু মিলনে মাতায়?
হিরণ্যবতীর তীরে
মল্লভূমে শায়িতপ্রয়াণ
শাক্যমুনি তথাগত বুদ্ধপ্রাণ
বুঝে নিতে চান প্রজ্ঞাবান
জীবনের কোন দানে স্মৃতি থেকে
মুছে যায় রাহুলমাতার ছবি?
কোন জ্ঞান তাকে বোধি কোরে দান
প্ররোচিত করেছিল দান দিতে
ভিক্ষুজীবির প্রাণ আপন সন্তানে?
কোন জ্ঞান তাকে দিয়েছিল
যুক্তির প্রাণ?
কি লাভ হলো বা তাতে,
এত বৌদ্ধ যুক্তিবাদী মন
শুধু জন্ম দিল সংঘবাদী
ভক্তিপ্রাণ,
যে পূজার বেদী থেকে
নেমে
তিনি ধীমান হলেন,
অবতার হয়ে সেই পূজার
বেদীতে
তিনি সমাসীন
অমর অম্লান।
অনুগামী বিম্বিসার
বিশাখা বণিককন্যা
কেন অভিমানে দূরে যান?
নির্বাণ মোক্ষের জালে
বর্ণভেদ জাতিভেদ
পথ খোঁজে
সংস্কারচিন্তার অবসান
অনিবার্য হয়,
বুদ্ধ অবতার হন,
পরিনির্বাণ নির্বাণ মোক্ষের
ফাঁদে ধরা পড়ে
অসামান্য মেধাবান
জ্যোতিস্মান এক প্রাণ,
তিনি বোধিপ্রাপ্ত দেববুদ্ধ,
তিনি তথাগত মারধ্বংসী
ধীমান।
হায় বোধি কেন অস্তাচলে যায়?
বজ্র কেন স্তব্ধ হয়ে
আকাশে মিলায়।
হায় তথাগত
তুমি কোথায়?
এখনো যে বসে আছি
আশায় আশায়!

Thursday, 12 January 2017


নির্জনে নিজের কাছে::

নির্জনে নিজের কাছে
ফিরে আসে প্রাণ,
অনন্যা নারীও খোঁজে
প্রেমিকে্র ঘ্রাণ
পুরুষের বুকে।
শিশিরসুবাসে পড়ে ঢাকা
সকালের নিঃসঙ্গ বাতাস
চো্রাস্রোতে বয়ে যায়,
চকিতে মিশেছে কি তাতে
বকুলে্র শ্বাস?
হঠাৎ শরীরি নেশা প্রেম হয়
ঝিনিঝিনি বাজে যেন পায়েলের
সুর,
অশরীরি নেশা হয়ে মেশে
শিউলির গন্ধ সুমধুর।
কেউ কি কোথাও জেগে থাকে?
হারানো স্রোতে্র রেখা
মেলায় কি কোন নদীবাঁকে?
অনন‍্যা নারীর ও খেদ থাকে,
বেচে থেকে লাভ কতোটুকু
সুধাপায়ী পুরুষের ঠোঁটে
যদি
মোহমায়া মিশে নাই থাকে?
হঠাৎ ই বুঝেছে নারী
প্রণয়ে্র সারকথা,
প্রতিবিম্ব থাকে না তো
স্বয়ং প্রণয় সরে গেলে,
থাকে শুধু মেদুরতা
গল্পগাথা হয়ে।
তার চেয়ে এই ভাল
মদির স্বপনাভাসে
কিছু কথা বলা হতে পারে,
সেও বড় ভাল
আর ও ভাল বলা নাই হলে,
না বলা কথারা যে শতগুন ভাল,
মিথ্যা বলে অপবাদ
কেউ দেবে না তো,
যদিও ভাল ই জানি
নির্জলা সুরার মত
সত্য নেই কিছুমাত্র তাতে

শঙ্খধ্বনি:

সারাজীবন ভালবাসা
সহজ তো নয় ,
সঙ্গে
অনেক দুঃখ ব্যথা,
সারা জীবন মুখ ফেরালে
মনের কোনে একটু বিষাদ
একটু ফাঁকা,
অনাদরে হাতের পরে হাত রেখেছো
কখনো কি হয়নি মনে
নয়কো সহজ এমনি বাঁচা?
হাতের পরে হাত রাখা নয়
সহজ কথা,
সহজ তো নয় শেষ বিকেলে
চোখের ওপর চোখ রেখে যে
অনাদরে বলতে পারা
যা চলে যা
অনেক দূ্রে অন্য কোথা!

হাতের পরে হাত রাখা তো
সহজ বড়,
যদি আদর করে জড়িয়ে থাকে
আঙ্গুলগুলো,
যদি হঠাৎ করে বুঝতে
পারো,
অনাদরের গর্ভে কোথাও
লুকিয়ে কিছু সহজ কথা;
হাতের পরে হাত রাখা নয় সহজ বড়
যদি পুঁথির পাতায় খুঁজতে থাকো
তত্ত্বকথা।
তবুও সারাজীবন বইতে পারা
সহজ তো হয়
যদি সুখ দেবে না দুঃখ দেবে
এমন কিছু কঠিন কথা
হিসেনিকেশ নাই বা করো,
উহ্য রাখো সারা সময়।

Friday, 6 January 2017

কেউ কি এগোলো?
কেউ কিছু বলে না তো!
দেখে যদি কিছু বোঝো
জানিয়ো আমাকে,
কেন সব মাঠ ছায়া গাছ
গায়ে মেখে রোদ আর সজল বাতাস
নির্বাক নিশ্চল,
এর কোন মানে আছে?
পারো যদি
জানাও আমাকে!
এখন ই তো ভোর হলো,
কেউ নেই আশেপাশে,
শীতের কুয়াশা এসে ঢাকে সবকিছু,
দেখা কিছু যায় না তো,
কেউ কি দেখেছে কিছু
দূর দৃষ্টিপাতে,
চারদিকে মাঠঘাট সরল সবুজ গাছ
ঝুঁকে আছে জলের উপরে,
সবাই মেখেছে গায়ে কুয়াশায়
ভরে থাকা সজল বাতাস,
তারপরে মিঠে রোদ , শিশিরসুবাস,
কেন যে সবাই আজ যেতে যেতে
কুয়াশার চাদরে পড়ে ঢাকা,
চায়নি এগোতে,
এর কোনো মানে আছে?
সহজসরল কিছু যদি থাকে,
পারো যদি জানাও আমাকে।

Wednesday, 4 January 2017


কল্পনা:৪

এক।।

অস্হির মেঘবালক বালিকার দল
উদ্যানবীথির উপর ইতস্তত
সঞ্চারণ করতে লাগলো।
দিকপালগণ কৌতূহলী দৃষ্টি ন্যস্ত করে
মেঘবালক বালিকাদের অস্হির সঞ্চালনের
গতিপথ নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।
নবীন যুবক অকস্মাৎ মেঘমালার
অস্হির সঞ্চালন লক্ষ্য করে পুলকিত হয়ে উঠলেন।
ভাবতে লাগলেন মধুময় মেঘ কি বারিধারার সূচনা করবে?
পর্জন্যদেব স্বর্গসভা পরিত্যাগ করে দিকদর্শনের জন্য গগনতলে আবির্ভূত হলেন।
দিকপালগণ সবিনয়ে সন্দেশ নিবেদন করলেন।
প্রসন্নচিত্তে পর্জন্যদেব মেঘবালক বালিকাদের আহ্বান করলেন।
বললেন, 'তোমাদের অস্হিরতার কারন কি?' নিজেদের চপলতার জন্য লজ্জিত মেঘবালক বালিকারা নতমুখে পর্জন্যদেবকে প্রণাম জানিয়ে নিরুত্তর হয়ে রইল।
পর্জন্যদেব বললেন, 'অনাবশ্যক অস্হির না হয়ে পুঞ্জীভূত হয়ে ধারাধারণ করো এবং শীঘ্রই বৃষ্টিপাতের জন্য তৈরি হও।'
মেঘবালক বালিকার দল উৎফুল্ল হয়ে ঊর্ধ্বাকাশ অভিমুখে ধাবমান হলো।
দশদিগন্তের কোণে কোণে তারা ছড়িয়ে পড়ল।
নবীন জলধারাভারে মেঘমালার মধ্যে
অশনিসংকেতের সূচনা হল।
ঊর্ধ্বে দৃষ্টিপাত করে যুবক হরষিত হয়ে উঠলেন।
নবীনা বধূ যুবকের দৃষ্টি অনুসরণ করে
বিজুরীরেখা ও কৃষ্ণশোভা দর্শনে উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন।
ইতস্তত সঞ্চারমান কাঠবিড়ালী ময়ূর
রাজহংসরা বর্ষণ সম্ভবনায় চঞ্চল হয়ে উঠল।
সমস্ত পক্ষীদল বৃক্ষশাখা আশ্রয় করে
কূজনমত্ত হয়ে উঠল।
নগর প্রাকারের রক্ষীরা সতর্ক হয়ে উঠল।
নাগরিককূল দ্রুত গৃহাভিমুখে হল।
বাতাস উচ্ছ্বল হয়ে শুকনো পাতার সম্ভার নিয়ে ক্রীড়ারত হল।
দেবপ্রভাকর তাঁর দীপ্তি হারিয়ে ম্লানমুখ হয়ে উঠলেন।
সপ্তাশ্বগণ আসন্ন বারিপাতের সম্ভাবনায় ধীরে ধীরে পশ্চিমমুখী পরিক্রমা শুরু করলো।
সমস্ত বিশ্বজগৎ জনপদ অরণ্য সাগর উন্মুখ হয়ে উঠলো।
ধীরে ধীরে বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেলো।
নদীপথযাত্রী সমস্ত তরী নৌকা ধীরে ধীরে গতি হ্রাস করে কূল অভিমুখে অগ্রসর হলো।
মাঝিমাল্লারা যথাবিহিত প্রস্তুতিমত জলযানগুলিকে তীরসংবদ্ধ করে রজ্জুসন্ধানে রত হল।

দুই।।

নবীন যুবক বরষা সম্ভাবনায় উৎফুল্ল হয়ে পত্নীকে বললেন, 'চলো আজ আমরা নবীন বরষায় স্নাত হই।'
দুইজনে পরষ্পরের হস্তধারণপূর্বক
বৃক্ষতলের পত্রাচ্ছাদন ত্যাগ করে উন্মুক্ত মেঘময় আকাশের নীচে এসে দন্ডায়মান হলেন।
অকস্মাৎ তীব্র নিনাদের সাথে ইন্দ্রদেব বজ্র নিক্ষেপ করলেন।
বজ্র বিদ্যুতের লেলিহান আলোক বিস্তারে বিশ্বজগৎ আলোকিত হয়ে উঠল।
তীব্র নিনাদপূর্বক বজ্র ভূতলে বৃক্ষশীর্ষে পতিত হল।
আতঙ্কিত বধু দয়িতের বক্ষে মুখ ন্যস্ত করে সভয়ে তাকে আলিঙ্গন করলেন।
প্রণয়বিস্তারী সেই নিঃশর্ত আলিঙ্গনে-বদ্ধ যুবক পত্নীকে পরম প্রেম ও মমতায় বাহুবদ্ধ করলেন।
নবদম্পতি হরষিত হলেন।
যুবক বজ্রদেবকে জনান্তিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেনএবং পত্নীর অঙ্গরাগ ও বসননিসৃত চন্দনসুবাসে নিমজ্জিত হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করলেন।
মেঘবালক বালিকার দল সেই মধুর দৃশ্য অবলোকন করে যুগপৎ রোমাঞ্চিত ও আহ্লাদিত হয়ে বর্ষার সূচনা করলো।
সমস্ত গগনতল তাদের পদচারণায় বাষ্পসুবাসে পরিপূর্ণ হল।
পর্জন্যদেব আনন্দিত হয়ে সবাইকে আশীর্বাদপূর্বক মেঘবালক বালিকাদের বললেন, 'বারিধারা নিরবচ্ছিন্ন না হলেই ভালো।ভূমিদেব অবসর পাবেন বারিধারাকে আত্মসাৎ করবার।'
বারিপাত কখনো মন্দ কখনো গতিমান হয়ে
মেঘবালক বালিকাদের রসরঙ্গের কারণ হয়ে
উঠলো।
ধরনী যুগপৎ আনন্দিত এবং বিষন্ন হয়ে উঠলেন।
কারণ কর্ষণকাল উপস্হিত।
তাতে ভূমি শস্যশ্যামলা হয়ে উঠবে
বারিবর্ষণের মিলনে।
কিন্ত ধরণীকে সইতে হবে নিদারুণ কর্ষণযন্ত্রণা।
বৃক্ষকূল পুলকিত হয়ে আন্দোলিত হতে লাগলো মরুৎতাড়নে।
আর সৃষ্টি সিক্ত ও তৃপ্ত হল।
সূর্যদেব ধীরে ধীরে দিগন্তপানে ধাবিত হলেন।
সন্ধ্যা সমাসন্ন।
নবদম্পতি অশ্বারোহনপূর্বক গৃহাভিমুখে যাত্রা করলেন।
সামনে পড়ে আছে বসন্তরজনী তার রহস্যকূহক নিয়ে।
নগরের পথে পথে দীপবাহকগণ দীপস্তম্ভের শীর্ষে এক এক করে দীপ জ্বালাতে লাগলো।
নবদম্পতি উদ্যানগৃহে প্রবেশ করলেন।
আলোকিত তোরণ অতিক্রম করে শিক্ষিত অশ্বের গতি মন্দ হল।
সুরম্য অট্টালিকার আলোকিত উৎসবসজ্জায় নবদম্পতি হৃষ্ট হয়ে উঠলেন।
অশ্বপালক লাগাম ধরে দম্পতিকে
অবতরণে
সাহায্য করলেন।
♡♡♡♡♢♢♢♢♡♡♡♡
চতুর্থ সর্গ সমাপ্ত।