Monday, 28 August 2017


ভালবাসা মধুপাত্র নয় ,
জলসত্রে স্বচ্ছ অভিমান ,
অন্ত অবকাশে পিপাসার্ত ,
মধুপাত্রে মিশে থাকা দোষ ,
মধুময় বেপথু বাতাস ,
করতলে মিশে থাকা স্বেদ ,
মধ্যাহ্নের খর তাপদাহে
চৈতালীর খিন্ন অবশেষ ।

অনেকদিন আগে তুমি আমায়
বলেছিলে
"আকাশ হয়ে ওঠো । মেঘলা দিনের
আষাঢ়ভরসা প্রথমদিনের মত,
একটু বৃষ্টি নামাও
খুব ভিজবো ,"
আমি বলেছিলাম "আকাশ হতে পারি মেঘলা
দিনের মত,
তবে বৃষ্টিতে কাজ কি ?
দেখতে পাওনা খড়ের চাল চুঁইয়ে
জল ঢুকছে,
মাদুরের উপর সুখনিদ্রার আয়োজন
তাতো বিফলে যাবে,
অনিদ্রায় আনন্দ প্রণয়ে,
বিশ্রামের ব‍্যাঘাতে নয়,"
তুমি মুখ গোমড়া করে বলেছিলে
"বড় বেরসিক তুমি,
যে রসের ছোঁয়ায় মেঘলা
দুপুর হঠাৎ জলথইথই
জলতরঙ্গের বাজনা শুনতে পায়
তা তোমার অন্তরমহলে নেই ।"
আমি হেসে বলি " ,তিরস্কারের বৃত্তে আমায়
ঢুকিয়ে নিলে লাভ কি ?
সংকোচের টানে কেন্দ্রবিন্দুতে
গিয়ে পড়বো
আর নজর করতেই পারবে না ।
তারচেয়ে আমায় শরতের আকাশ হতে বলো ,
ফুরফুরে তুলোর পাঁজার বা পালকের মত
শঙ্খশুভ্র
মেঘ আমায় ঘিরে থাকবে,
চারদিক আলোঝলমল ,
তুমি মেঘবালিকা হতে পারো,
তবে ভরাবাদরে
ঝরে পোড়ো না ।
আমার সাথে গা লাগিয়ে সোহাগ না করলে
আর লাভ কি ?
আকাশ মেঘের বায়নাক্কা মেটাতে গিয়ে
তোমার অনাদর সহ্য হবে না ।
তার চেয়ে একটা গল্প বলি শোনো ,
চুলবুল না করে চুপটি করে বসো ।
কপালের ঝুরো চুলগুলো থাকলেও ভাল
না থাকলে ও ভাল।
কেমন তোমার দুটি রূপ ,
এই চঞ্চলা এই শান্ত ,
এই হাসিমুখ এই রূদ্রাণী ,
নাও একটু ঘনিয়ে এসো,
নইলে জোরে শ্বাস নিলে ওই তোমার
গভীর থেকে উঠে আসা
চন্দনের আভাস কি করে পাই ?"
জানোতো গত বছর যখন
শরৎ পেরিয়ে হেমন্ত পাতা ঝরাতে
ব‍্যস্ত হয়ে পড়ল,
গেলাম তামাপাহাড়ীর ওই পাকদন্ডীর জঙ্গলে,
কত রকম গাছ কি বলবো
কেউ মাটিতে মিশে আছে কেউ একটু মাথা
তুলে আর বাড়বে কিনা বুঝতে পারছে না
কেউ কুছপরোয়া না করে চারদিকে ডালপালা ছড়িয়ে
বনস্পতি হয়ে উঠলো
কেউ আশপাশে না তাকিয়ে
ধ‍্ররধর মেঘমালার আশপাশে
দাড়িয়ে উঠলো ।
তা হেমন্তের বায়নাক্কা মেটাতে গিয়ে
তাদের পাতা ঝ‍রছে তো ঝরছেই ।
সে কত রকমের পাতা !
কতরকমের সবুজাভা তাতে ,
পেলব বিষণ্ণ ,কর্কশ লাবণ‍্য ,
কেউ সূচোলো , কেউ বৃত্তকলায় অনন‍্য
স্বয়ং ইউক্লিড ও অমন রেখার রকমফের ভাবতে পারবেন না ।
কেই বা কখনো পেরেছে প্রকৃতির উপর
কিছু খবরদারি করতে ? সে তো
সর্বত্রগামিনী সর্বকর্মপটীয়সী।
তারপরে কি হলো শোনো ,
পাহাড়চূড়ায় গিয়ে যখন পৌঁছলাম তখন
বেলা গড়িয়ে দুপুর,
একটা ঝোপড়া গাছের ছায়ায় আরাম করে বসলাম,
সামনে ফাঁকা জায়গায় ঝরা পাতার রাশি ।
মাঝে মাঝে মাথা তুলেছে শাল সেগুনের চারা ।
আকাশটা ঝকঝকে নীল । মাথার উপ‍রে সূর্য
সারাদিন জ্বলেপুড়ে রাঙ্গা হয়ে উঠেছে ।
ওমনি সামনের জঙ্গলটা নড়ে উঠলো ।
গাছপাতা স‍রিয়ে সে সামনে এসে দাড়ালো ।
লম্বা দোহারা চেহারা ।একগাল দাড়ি । একটা হেটো ধুতি বেশ মালকোচা মেরে পরা ।খালি পা । আর তার উজ্জ্বল দুই চোখ । হা করে তাকিয়ে দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করলাম

[ ] তুমি কে ?

[ ] বললে "আমি ভগবান ।"

[ ] হেসে ফেললাম আমি

[ ] তা এখানে একটু বসো না কেন !

[ ] "তা বটে । একটু জিরোনোও হবে,"

[ ] বললাম "থাকো কোথায় ?"

[ ] " যেখানে যখন থাকি,,"

[ ] "তা ঠিক বলেছো,"

[ ] " কিন্তু রোদটা বড় তাপ দিচ্ছে ।গায়ে কেমন জ্বালা হচ্ছে না ?"

[ ] আমি মাথা হেলিয়ে সায় দিতে সে মাথা হেলিয়ে উপরপানে চেয়ে দেখলো

[ ] হঠাৎ কেমন রোদটা কমে গেলো ।

[ ] তাকিয়ে দেখি একটুকরো জলভরা মেঘে সূয‍্যি ঢাকা

[ ] ভগবান নির্বিকার বসে ।

[ ] বললাম "খিদে পায় নি ?"

[ ] কেমন আশ্চর্য হয়ে সে তাকালো ।বললো "খুব খিদে পেয়েছে ।"

[ ] টিফিনকৌটো বের করে লুচিতরকারির অনেকটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে নিজে ও খেতে লাগলাম ।কি তৃপ্তি করে ভগবান খাচ্ছিলো । এত সুখ খেয়ে হয় ? কি জানি সেদিনের সেই রোজকার বানানো লুচিতরকারি কেমন করে অমৃত হয়ে উঠলো ।

[ ] "একটু শুলে হয় । "

[ ] ভগবানবললো "ঠিক কথা " ।আকাশের দিকে মুখ করে দুজনে ই শুয়ে পড়লাম ।শুকনো খরখরে পাতা আর নুড়িপাথ‍রের সেই শয‍্যা কেমন কোমল ন‍্ররম হয়ে উঠলো ।খালি একটু হাওয়া পেলে হতো ! কেউ হাসলো ।ঘাড়ঘুরিয়ে দেখি ভগবানের প্রসন্ন মুখ । চোখ বুঁজতেই তাপ কমে এলো ।ফুরফুরে হাওয়া বইতে লাগলো । একটু একটু করে ঘুমের অতলে তলিয়ে গেলাম ।

[ ] কতক্ষণ পরে ঘুম ভাঙ্গলো জানি না ।রোদ পড়ে এসেছে । ভগবানের চিহ্ন নেই ।আমার পাশে শুকনো পাতার রাশি স্পর্শচিহ্নরহিত ।কখনো কেউ সেই শুকনো পাতার উপর শুয়েছে বলে মনে হয় না ।হঠাৎই সেই জলভরা মেঘটা ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরতে লাগলো । শুকনো পাতার উপর জলের ফোঁটা পড়তে কেমন পায়ের শব্দের মত বেজে উঠলো ।আমার বুকের মধ‍্যে সেই গভীর মর্মভেদী চোখ জেগে রইলো ।সমস্ত গাছপালারা হেসে আকুল হয়ে উঠলো ।খুব ঠকে গিয়েছি । কেউ এসেছিল তা বুঝতে পারিনি । হেমন্তের এই পাতাঝরা বিকেলে তার সাড়া পেয়েছি । ধীরে ধীরে নেমে এলাম পাকদন্ডী বেয়ে ।বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু বললাম না ।টিফিনকৌটো বেসিনে নামিয়ে রাখতে গিয়ে তেমন হাল্কা বোধ হলো না ।খুলে দেখি ভর্তি । লুচিত‍্ররকারি কেউ ছুঁয়েছে মনে হয় না । "

[ ] ওকি উঠছো কেন?

[ ] যত বানানো গল্পে তোমার আনন্দ তাই না ?

[ ] তোমার নয়?

[ ] একটু চুপ করে থাকা , একটু নৈঃশব্দ‍্য ।

[ ] তারপরে একটা শ্বাস ফেলার শব্দ ।

[ ] একটা কোমল হাত আমার হাত জড়িয়ে

ধরলো ।"আমাকে একদিন ওই পাহাড়চূড়ায় নিয়ে যাবে ? কে জানে আবার যদি ভগবানের দেখা পাই ।"

[ ] হ‍্যাঁ একদিন আবার আমরা ওই পাহাড়চূড়ায় যাবো । একদিনের জন‍্য হলেও আমি আকাশ হবো ।

কানু ১:::

এখনো
মেঘ জমে আছে ,
বিজুরী ঝরিছে
বড়ই ঘন ঘন!!
ত্রস্ত হয়ে যে দিশা হারিয়েছি বুঝি ,
এই ঘনঘটা
থামবেনা কখনো??!

কি করি বলো আমি ?
ফিরে তো যাবোনা ,
বজ্রপাত হোক
তাতেও দাঁড়াবোনা ,
বিজুরী আলোকে
পথ চিনে নেবো ঠিক ই ,
বজ্রনির্ঘোষে
ভয় তো পাবো না.......!!

তুমি কোথায় আছো?
নিরাশ হয়োনা ,
অধীর না হয়ে
পিছল পথ ধরে ,
ঠিকই চলে যাবো
কাননমাঝারে ,
যতই দেরী হোক
ঠিকই
খুজে নেবো,
একটু দাঁড়াও....
ঠিকই এসে যাবো ,
সহেনা সখা আর বিরহ যাতনা...,
মেঘের গুরুগুরু কিছুতে থামেনা ,
জেনো মরিতে রাজী আছি
যদি পুরাও বাসনা.।.
জানি হে কানু তুমি প্রতারকসেরা ,
রক্তে তোমার মিশে যে ছলনা ,
তুমি কি ভাবো আমি কিছুই বুঝি না ?
নেহাত ই নই.আমি মুগ্ধ ললনা !
ভোগ কি আমাকে কানু
তুমিই শুধু করো.?
কানু হে,,,জেনে রাখো ,,

আমিও তোমায় ভোগ
কম তো করি না ।

ছলনা কি শুধু পুরুষ ই করে থাকে ?
নারী কি ছলনা করিতে পারেনা ?
নিকষিত প্রেম কি শুধু
আমার ই দায় কানু ?
তুমি কি কোনই দায় ই নেবে না?
.

মুঠোতে ধরেছি বুঝি
তোমার হাত ?
কেন কি ভরসা আছে
অঝোর বরষা শেষে
একমুঠো জোছনায়
ভাসবেই জেনো আজ
অনেক মেঘেতে ছাওয়া
নীলাকাশ ।
বানভাসি রাজপথে
বেপথু হৃদয় ভেজে
কে ভেবেছে নদীবাঁধে
ধরেছে গোপন চিড়,
ভাঙ্গনের ভয় আছে
ভেঙ্গে পড়া নয় দূ্র ।
গভীর গহন হয়ে
জলধারা ধুয়ে ফেলে
স্বপ্রভ হয়েছে নদী
কেটে গেছে ঘুমঘোর ।
দেব কি তোমাকে আজ
ভরাডুবি হতে আশা
সব মাটি ধুয়ে ফেলে
বরষা যে ঘনঘোর ।
দমকা হাওয়ায় ছাতা
উড়েছে যে কিছুদূর
ভিজে গেছে ঝোলাব্যাগ
রুমাল আঁচল খাতা
আরো তো সহজ হলো
একটু ঘনিয়ে আসা
বাতাসে জলের গন্ধ
আঁচলে চন্দন
অমরাবতীর খোঁজে
ঠোঁটের বন্ধন ,
মৃণাল তো বাহুলতা
শ্বাসে যে প্রলয়
আকাশে উড়েছে আজ
দামাল হৃদয় ।
কদমে জারুলে ঢাকা
মেঘলা আকাশ
ছিঁড়ে ফেলে চেয়ে থাকে
কুতূহলী চাঁদ ।
থেমেছে বরষা এই
ভিজে গেছে মাটি ঘাস
বাতাসে ভেসেছে ওই
কদমের ভেজা শ্বাস ।
বরষাবাতাসে কেন
মলয়চন্দনাভাস ?

ঝরছে যে ফুল বৃষ্টিভেজা
পথের উপর
আকাশটা কাল খুব কেঁদেছে
কাঁদতে কাঁদতেই রাত হয় ভোর ।

কল্প অন্তে আকাশ আঁধার ,
তারা জ্বলে অগ্নিপিন্ড ,
পুড়ছে সময় চতুর্মাত্রা
বিন্দু থেকে পুনর্জন্ম ।
বিশাল বিপুল বিস্ফোরণে
ঈশ্বর ও কি ওঠেন জেগে ?
কল্পঅন্তে জীবন শুরু
সৃষ্টি চলে আঁধার সেঁচে ।
দ্বাদশ মনু্র কাল ফুরালো
ত্রয়োদশের শুভারম্ভ ;
ছন্দ ভেঙ্গে অমিত্রাক্ষর,
চতুর্দশ পদ
বিধি নির্বন্ধ ,
প্রমীলাবরণ শেষে
মেঘনাদ হন শরবিদ্ধ ,.,
রামানুজের চকিত হানায়
নিকুম্ভিলা যজ্ঞ পন্ড ,
ভুলুন্ঠিত ইন্দ্রজিৎ হায়
বিগতপ্রাণ ছিন্নবর্ম ।
ঝরছে বকুল বৃষ্টিভেজা
স্তব্ধশীতল দেহের উপর ,
আকাশটা কাল খুব কেঁদেছে
কাঁদতে কাঁদতেই হয় রাতভোর ।

অগ্নিবর্ষণে দগ্ধ ভরসা ,
বাকী আর কি ?
কাটেনি তো পু্রো ধন্দ ,
তুমি
মগ্ন ,
আনমনা
অথবা
ঈষৎ অসংলগ্ন ;
গোপন , মহার্ঘ‍্য
ভিজে খামে তুমি লুকিয়ে
রেখেছো ,
ছিঁড়ে কুচিকুচি স্বপ্ন ,
খাদের অতল গভীরে
ডুবে প্রাণভোমরার কৌটো ,
একডুবে তুমি কোনদিন ,
তুলে আনবেই
সেটা ভাবো কি ?
কল্পান্ত হয় নি এখনো ,
বহুশত শত যুগ বাকী !

ঘনঘটা করে এসেছে
প্লাবন , মেঘ ,
তেপান্তরের মাঠ জুড়ে
জমে জল ,
কোথা যাই ফেলে
আশাবরী রাগে বাঁধা
ভুবনডাঙ্গার সুরভরা
কোলাহল ,
গভীর গোপন
হঠকারিতাই
প্রাপ্তি ,
পদস্খলণ নিয়ত ই ছিল সঙ্গী ,
মনোকামনার
আকাশ জুড়ে ব্যাপ্তি ,
প্রদূষণ শুধু
জলমাটিতেই হয় নি ,
মন আমার কেন
বিষের ধোঁয়ায় রূদ্ধ. ?
কেন অস্থির দেহভঙ্গী ?
সঙ্গী তো ছিল কূল ভাঙ্গবার শব্দ ,
রক্তক্ষরণে নিস্তেজ হৃৎপিন্ড ,
একাঘ্নী বানেতে পুড়েছে
সম্পর্ক ? শত যুগ ধরে
করি কি ?

মগ্ন আকাশে
মৈনাক এসে সাড়া দেয়,
আতিথেয়তার অপবাদ
কেউ দেবে না ,
জলে ভেসে গেছে
দুধে ভরা ধানভান্ড ,
প্রকৃতি কেমন করাল কুটিল
বৈরী ,
কেড়ে নেয় যা ছিল
তার ই দেওয়া দানভান্ড ।
জলে ভেসে যায় বেহুলার নাও ,
লখীন্দর নিস্তব্ধ ।

সেখানে বোধনের
ঢাক বাজে
বিপন্ন আয়াসে,
বিসর্জন সমাসন্ন,
সূ্র্য পশ্চিমে গেলে
নির্জন পথের পাশে
নীলবর্ণ ঘাসফুল
ফুটে থাকে,
ঘোর অন্ধকার নামে
কৃষ্ণবর্ণ চাদরের মত ,
নির্জন পথের ধারে
বুড়ো কোন বটের কোটরে
বাসা বাঁধে ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী,
রাতচরা বুনো পাখী
শিকার সন্ধানে
ঘোরে,
হিম হয়ে আসে
রাত,
ঘন হয়ে ওঠে শিশিরের কণা ,
নিদ্রা যায় আবছায়া চাঁদ,
মেঘ ভাসে মেঘের উপরে ,
আনমনে ছুঁয়ে যায়
ঘুম ঘুম চোখ ।গতায়ু জীবন
কেন জোনাকির মত ফের জ্বলে নেভে,
শুকতারা জ্বৃলজ্বলে হয়ে
আর ফোঁটে নাতো !
মাধবীবিতানে সবুজের
সুখ ভাসে না তো আর ,
সরোজের সুখে কেন
মজে না সায়র ? অসুখের
দল কেন সায়কের মত
বুকে বেঁধে ? সাতন‍রী হার হয়ে
ওঠে বিষাদের মালা ,
সুখ খালি মুক্তোবিন্দু হয়ে
শ্বাস ভরে অশোকের বশে !

অতিক্রান্ত দীর্ঘ মরুপথ ,
প্রলম্বিত পথচলা শেষে
মরুদ্যানে থেমেছি আমি,
ভবঘুরে বাউন্ডুলে আজ,
বিষণ্ণ আকাশ জুড়ে
সঘন আশ্লেষমাখা
শীর্ণ ক্রোধী চাঁদ ,
অমানিশা বহুদূর
তবু ,দিকভ্রষ্ট আমি,
কেন তা জানি না,
পান্ডুরবদনে লাগে
অগ্ৰগামী বসন্তের আঁচ ,
কৃষ্ণশশী
গলে যায় , ভিজেছে আকাশ,
মেঘদলে চন্দ্রিমার
ছায়া ভাসে,
দিনশেষে ক্লান্ত
আমি , এখানে
তোমার কাছে থেমেছি
কেন যে আমি আজ !
বিষণ্ণ আকাশ জুড়ে
বিবর্ণ নিভুনিভু চাঁদ ।
অন্তরঙ্গে অমানিশা
বহিরঙ্গে পৌর্ণমাসী চাঁদ ।

পার্থসারথীর সৌজন্যে :::::::::

,কোথায় যেন একটুখানি জ্বর !
কপালে তোর হাত রেখেছি , ঠোঁট
তোর ঠোঁটের ই উপর,
বজ্রপাতে
চূর্ণ হল গাছ পাহাড় আর ঘর ,
তোর শরীর জুড়ে
দারুণ সুবাস , যেন
আমার শরীর ভাসছে এখন
তোর শরীরের ই উপর ,
তোর মনের মধ্যে ঝড়, যেন
শেষ বিকেলে মরণ ঘনায়
মরণেরই উপর , তবু কোথায় যেন
একটুখানি জ্বর ,
যেন
একটু তাপের আভাস পেলাম ,
যেন একটু ঘোর আর জ্বর, আমার
হাতখানি তুই ধর !
কেন দরজাতে তুই
খিল দিয়েছিস ? কে আপন
কেই বা তোর পর ?
মলয় বাতাস থমকে
আছে ,
তুই আগল খুলে ধর !
শেষ বিকেলে নামাস
নে আর ঝড় ।

সংশয় সন্দেহ হয়
বিষ ভাসে তাতে
অসহ নিশীথ তাই
বোধহীন অমানিশা হয়ে
বোধির দুয়ারে নেমে আসে ।

রাজপথে মানুষশিকারী ,
শ্বাপদের দল ,
সর্বনাশের স্বাদে
ঠোঁট চাটে,
রাজশক্তি দৃষ্টিহীন
ধৃতরাষ্ট্র , গান্ধারীর দৃষ্টি
রূদ্ধ,
বিষশ্বাসে জ্বলে যায়
জতুগৃহ ,
কুরুক্ষেত্র শবদেহে ঢাকে ।

তবুও তো ভোর হয়
আলো আসে ,
মানুষের হাত
মানুষ ই তো ধরে
রাখে ।