Wednesday, 12 April 2017


কোন এক রৌদ্ররাঙ্গা সকালে
ঘুম থেকে উঠে দেখি
বাতাসে ধোঁয়ার গন্ধ,
চোখ জ্বালা করে ওঠে,সাফাইকর্মীরা
কেউ পাতাঝরা বসন্তমর্মরের ধার ধারে না,
আকশি দিয়ে টেনে জমা করে ছিন্নপত্র
স্তুপাকৃতি বসন্তবিলাসে অগ্নি প্রবিষ্ট হয়
দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে ঝরাপাতার স্বরলিপি,
কৃষ্ণধোঁয়ার স্তম্ভ উথ্থিত হয় সরলরৈখিক চলনে
আকাশপানে বার্তা যায় অগ্নি রেখার বিপর্যয়ের,

খোলা জানালার ফাঁক দিয়ে ধোঁয়া আসে আর ও,
আমি জানালা দিয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখতে চাই
আমার চির আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে কিছু ধরা পড়ে না
আমি নেমে আসি রাস্তায়
সেখানে মলয় বাতাসে চন্দন গন্ধ নেই
আছে উড়ে যাওয়া ধূলো ,পাতা ,শুকনো ফুল,
আছে রোদে গরম হয়ে ওঠা ধোঁয়ার গন্ধ
ফুটপাথের চা,তেলেভাজা,চাউমিন
আর লাল কাপড়মোড়া হাড়িতে রাখা
বিরিয়ানি,পুরভরা কচুরি,পেটাই পরোটা,
ব্যস্ত পথিকের আনাগোনা ফিরিওয়ালার
কর্কশ চিৎকার,"কাগ,,,,,,জ,পুরোনো কাগ,,,,জ",
পুরোনোকাপড়ওয়ালা
মাছওয়ালা,সব্জিওয়ালা,শিলপাটাওয়ালা,
সমবেত ঐক্যতান পেরিয়ে এগিয়ে যাই,
সামনের বাড়ির দেওয়ালে ঝুলে আছে
মাধবীলতা,বোগেনভিলিয়া
উষ্ণ বাতাসে দোলে গন্ধরাজ,অপরাজিতা
ছাতিমতলায় ঝরে পড়া ফুল
সোদাল জারুল কৃষ্ণচূড়ার
রংবাহার বেরিয়ে রাস্তার দুপাশে
জীর্ণপ্রায় দুই বাড়ির অঙ্গনে
জবা,রঙ্গন,কামিনীর মেলামেশা
বারান্দায় পোষা সারমেয়র ডাকাডাকি
রাস্তার পাশে জমে থাকা জলে
কাকশালিকের গঙ্গাস্নান
সামনে পরিত্যক্ত বাড়ির উঠোনে
স্তুপাকৃতি শুকনো সেগুনের পাতা
অযত্নে বেড়ে ওঠা করবী রঙ্গন কাঠটগরের
পাতা ফুল ,আশপাশে হাল্কা পায়ে ঘোরে
একজোড়া ঘুঘু,ছাতারের দল।
ঘুরে বেড়ায় পীতপদ,বুলবুলি,ফিঙে
কলাবতীর ঝোপে বাসা বাঁধে মৌটুসি
নারকেলগাছে্র ডালের পত্রছায়ায় বসে থাকে চিল
কার্নিশে চড়ুই আর পায়রার দল
কেয়ারী করা রাস্তার টানা ইঁটের টুকরোয়
শ্যাওলা,নুড়িপাথরের চাদর পাতায় ঢাকা
ভাঙ্গা কার্নিসে পায়রার বাসা,
কখন ও কখন ও হঠাৎ ই সামনে আসা
ব্যতিব্যস্ত কাঠবেড়ালীর জুড়ি,
নিঃসঙ্গ আমকাঁঠালের পাশে সহজসরল
নারকেলসুপারীর দল হাওয়ায় দোলে।
রোদ একটু কড়া,বাতাসে বাস্পের ছোঁয়া
পায়ের তলায় শুকনো পাতার ভেঙ্গে
যাওয়ার শব্দ,জুতোর তলায় পিছলে যায় নুড়িপাথর,
কালো পিচের রাস্তায় পিছলে যায় গাড়ি,
তীব্র হর্নে্র শব্দ,ক্যাঁচকোচ ব্রেকের আওয়াজ।
স্কুলের সামনে ভিড় ভরা রাস্তায় তাড়াহুড়ো,
শহর আবার চলছে নিজে্র গতিতে নিজের মত,
পিঁছনে পড়ে থাকে মৃত্যুর মিছিল
ভেজাচোখ আর অসহায়তা,
এ জীবনে স্মৃতি ইতিহাস ,হয়ে যায়
বাতাসে সত্য শুধু শিউলীর গন্ধ।
বসন্তে পাতা সব ঝরছে অযত্নে
বসন্ত তোমার শ্বাস ধোঁয়ায় রূদ্ধ ।
রেডিও তে সানাই এর সুর
আর আমার রাস্তায় অলৌকিক সুর
বাঁশিওয়ালার,
শহরের ইতিকথা অসমাপ্ত পালাগানের
মত ,যেন ধারাবাহিক আসর হয়েও
মূল গল্পে কোন ধারাবাহিকতা নেই।
আকাশ পরিষ্কার নীল
দুএকটুকরো হাল্কা মেঘ মানচিত্র বা
ছবি আঁকে,কে জানে কি!
কালিদাসের মেঘদূত বা বাখের ইলিউশন!
এলোমেলো হাওয়া শ্বাস ফেলে
মাপা পদক্ষেপে ঘুরে বেড়ায়,
অঙ্গনে কি শিরীষশাখায় দোল লাগে,
স্বপ্ন কি দিগন্তজুড়ে ছড়ায়
কথোপকথন কি আবার শুরু হয়
ফোটে কি কদমফুলে্র স্বপ্ন,
অনেক ফুল ফুঁটে কি আজ চিরবসন্ত
বনবীথিতলে আবার পথ খুঁজে পায়
আশায় আশায়।
একঝাঁক পলাশ ঝ‍রে পড়ে পিচের রাস্তায়
পশ্চিম আকাশ লালে লাল
বাসন্তীমায়ায়
একোন নেশায় আজ মন লঘু হয়ে আসে
একঝাঁক বুনো হাঁস পথ হা্রায়।

No comments:

Post a Comment