সেখানে বোধনের
ঢাক বাজে
বিপন্ন আয়াসে,
বিসর্জন সমাসন্ন,
সূ্র্য পশ্চিমে গেলে
নির্জন পথের পাশে
ঘাসফুল ফুটে থাকে,
রৌদ্র জলে স্নান করে
সোনালী ফসল,
চেনা মুখ চেয়ে থাকে,
দৃষ্টি ম্লান,
খড়ের গাদার পাশে
বসে থাকে
অচেনা পাখীর ঝাঁক,
ধূলো ওড়ে ,
বাঁশের ঝাড়ের পাশে
একহাঁটু জল জমে থাকে।
শেওলা সবুজ,
বুনো ঘাস ছুঁয়ে যায়
বয়ে যাওয়া জল,
বাতাসে আওয়াজ তোলে
রোদনের সুর,
মাঝে মাঝে সাড়া দেয়
বুনো বক ডাহুকের দল,
একজোড়া ঘুঘু বসে
ঘাসের উপর,
ভবঘুরে নিদ্রা যায়
ক্ষুন্নিবৃত্তি হলে,
খড়ের চালার পাশে
ডাঁই করে রাখা খড়
তির্যক বিন্যাসে,
মাটির দেওয়াল জুড়ে
আলপনা চিত্রলেখা,
নদীর এপাড় জুড়ে
ডিঙ্গিনৌকা,
শীর্ণতোয়া নদী জুড়ে
ধূধূ বালিচর,
বটের ছায়ার নীচে মূর্তির কাঠামো,
নীল আকাশ জুড়ে
ছন্নছাড়া মেঘ,
ভবঘুরে স্বভাবের টানে
কে জানে কোথায় যায় চলে
জলরাশি বুকে বয়ে বয়ে,
দুধারে নেমেছে ছায়া
দিকচিহ্ন মুছেছে কোথায়,
একখানা হাসিমুখ
কৌতূহলী ভীরু চোখ
আসেনা দৃষ্টি র দোরে
শূন্য গ্রাম পূর্ণ শোক।
অভয়ে আনন্দ আসে
বিরহে কৌতুক।
বসন্ত বিলাপে কাটে
সৃষ্টি সাধে সুর।
আয়নায় দেখি আমি
বাংলার মুখ।
No comments:
Post a Comment