Monday, 28 August 2017


ভাবনা :::

পাহাড়ের কঠিন পাথুরে
অবয়বের
নীচে রয়েছে ঝরণার জল,
আর কোমল হৃদয়,
নেই মন্দির মসজিদের জ্বালাতন
ঈশ্বরভাবনার আস্ফালন,খালি
ঝুঁকে পড়া পাহাড়ি চাতালের
নীচে ছায়াঢাকা কোমল ঘাস,
ফুটে আছে অনেক বর্ণের ফুল,
বাদামী সাদা ছত্রাকেরা জুড়ে
রয়েছে পাথরের আনাচেকানাচে,
ধূলোবালির
মলিনতা এড়িয়ে ভিজে বাতাসের গন্ধ,
ঝোপঝাড়ে জীবনের আভাস,
পাখিদের সঘন উল্লাস আর
মাঝে মাঝে ওই ঝোড়ো বাতাস,
এই অনাথ পৃথিবীকে
এলোমেলো করে মাটিতে লুটোপুটি
খেতে খেতে পাহাড় বেয়ে নেমে যায়
যেন লুকোচুরি খেলছে,
ঘাসবনে ঢেউ ওঠে,,সবুজ গাছ
দুলে ওঠে, সরল সতেজ লীলাময়,
কর্কশ চিলের ডাক আকাশ
বিদীর্ণ করে,রোদ্দুরে ঝলমল করে বৃক্ষ,
আকাশ,পাহাড় প্রান্তর,
ঝরণাধারায় ভিজে ওঠে পথ রেখা,
তৃষ্ণা দূরে যায়,শান্ত হয় পিপাসার্ত
চরাচর, দিনক্ষণ,
ঘাসের চাদর আর খাত ;
বাতাসে শিসের শব্দ, শিহরণ,
বৃক্ষমূলে খেলা করে নিস্তব্ধতা,
ছায়াময় আঁধারআলো ,
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে যায়
শ্যামলিমা,
দেবদারু পাইনের দল সবুজে
সবুজ, অশোক অদীর্ণ ,
পাহাড় জুড়ে বুনো অর্কিডের মেলা,
উদ্ধত রডোডেনড্রনের চূড়ায়
কখনো লাল কখনো গোলাপী বা সাদা রঙের
খেলা,
খাতের পাশে খাড়া পাহাড়,
হঠাৎ কখন ডাকাতের মত ঝাঁপিয়ে
পড়ে মেঘ আর কুয়াশা
হাত ধরাধরি করে,
নিমেষে উধাও রোদ্দুর আর উষ্ণতা,
হিম হয়ে আসে শরীর
বাতাস,বৃষ্টি হয় অঝোরে,
অজস্র জলবিন্দু সহসা
শিলা হয়ে বর্ষায়, বাতাসের
গতি বাড়ে,সূর্য ডুবে যায়,
একটু একটু করে অন্ধকার
গাঢ় হয়ে ওঠে,আর অসংখ্য আলোর
মালায় পাহাড় ঝলমল করে ওঠে।
পাহাড় জেগে থাকে,কে জানে কখন
ঘুমায়। কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে।
পৃথিবী ঈশ্বরহীন অবসন্ন হতে পারে,
তবুও চাঁদনী রাতে সজল শ্যামল।

No comments:

Post a Comment