নাকছাবি:৩
^^^^^^^^^^^
শ্যামল মেয়ের জীবন বড়
সুখের ধারায়,
রাগ অভিমান কতোশত
অশ্রুধারা,
সুখের সায়র
বর্ষাধারা,
মিলেমিশে বানায় যে
এক সুখের বাসা,
সাতরকমের রং এর সেথায়
মেলামেশা।
গ্রীষ্মে যখন দারুণ তাপে
দিশাহারা,
সময় কাটে শ্রান্ত সুরে,
নাকছাবিটির ওপর তখন
শ্যামল মেয়ের নজর পড়ে,
দ্বিপ্রহরের কাজের শেষে
দখিনখোলা জানালা দিয়ে
একটু আসে স্নিগ্ধ বাতাস
একটু কেমন রোদের ঝলক
গাছের ফাঁকে ভাসাভাসা,
ঝিকমিকিয়ে ওঠে তখন
সূ্র্যপ্রভা
নাকছাবিটার দারুণ চমক।
বরষা যখন জোরে নামে,
চারদিকেতে জলে ভাসা,
বাণভাসির তোড়ে তখন
তিস্তা নদী সর্বনাশা।
ছোট্ট শহর দ্বিধায় ভোগে,
বন্যা কি ফের করাল হয়ে
ঝাঁপ দেবে এই জলশহরে?
এমনি সময় বৃষ্টি থামে,
সূর্য ভাসে মেঘের ফাঁকে,
অঝোর ধারা বন্ধ হলে
জানালা ধরে শ্যামল মেয়ে
গাছের ফাঁকে মাঠের পানে
চেয়ে দেখে,
একফালি এক রৌদ্র এসে
নাচছে কেমন ঘাসের পরে,
গাছের পাতায় ঝিলিক মারে,
এমন সময় শ্যামল মেয়ে
ঝুঁকে পড়ে বাহিরপানে,
এক ঝলকের রৌদ্র এসে
মুখে পড়ে,
ঝলসে ওঠে নাকছাবিটা,
সূর্য যেন নামল ঘরে।
তারপরেতে শরৎ আসে
মধুর হয়ে,
সফেদ মেঘের দলেরা সব
আকাশ জুড়ে সফর করে।
পুজো আসে।
শ্যামল ছেলের ঘোরার নেশা
চলল এবার পাহাড়চূড়োয়
উঠবে বলে
সদলবলে।
যাবার আগে সেই নিরালায়
একটু কাছে
ঘনিয়ে এলো শ্যামল মেয়ে,
বুকের ভেতর মুখটি গুঁজে
ফেলল কেঁদে,
হঠাৎ প্রিয় নাকছাবিটা
ফেলল খুলে,
টেনে নিল শ্যামল ছেলের
হাতটা কাছে,
মুঠোয় ভরে নাকছাবিটা দিল তাকে।
বলল, "আমি থাকব
সদাই তোমার সাথে।
নাকছাবিটাই দেখবে
তোমায়
সব বিপদে।"
শ্যামল ছেলে মৃদু
হেসে,
জড়িয়ে তাকে নিল কাছে।
তারপর?
প্রণয়বলয় যেন
কঙ্কন হয়ে
বাজতে থাকে।
তারপর?
শ্বশ্রূমাতা হঠাৎ
দেখেন
নাকছাবি নেই
বৌয়ের নাকে,
চমকে গিয়ে শুধোন তাকে
"কোথায় গেল?"
নতমুখে জবাব দিল
শ্যামলী মেয়ে,
"ওইতো তোমার ছেলের
কাছে"।
আরোহণের মধ্যপথে
বরষা নামে,
তুষারঝড়ে পথ হারিয়ে
দলছাড়া হয় শ্যামল ছেলে।
সঙ্গীরা সব ফিরে আসে
নিখোঁজ কেবল
শ্যামল ছেলে।
দূরভাষে খবর মেলে
নিথর হয়ে জানালা ধরে
শ্যামল মেয়ে,
দুই চোখে তার জলের ধারা
বাঁধনহারা।
নীরব হল পুজোর বাড়ি,
আছড়ে পড়েন মায়ের পায়ে
শ্যামল ছেলের সব ই স্বজন।
শ্যামল ছেলের খোঁজে বেরোয়
অনেক সাথী,
আকাশপথে উড়তে থাকে
কলের পাখি।
এমন সময় চোখে পড়ে
নিথর দেহ,
চিকচিক করছিল যে উজল আলো,
আকাশ বেয়ে ফেরায় তাকে
হাসপাতালে।
এরপরেতে ফোন যে বাজে
দূ্রভাষে খবর আসে,
শ্যামল ছেলে বেঁচে আছে
জ্ঞান ফিরেছে
ভাল আছে।
হপ্তাদুয়েক পরে এলো
শ্যামল ছেলে,
অনেক খুশীর গল্প শেষে
অনেক আশীর্বাদের শেষে
শ্যামল ছেলে মুচকি হেসে
এলো শ্যামল মেয়ের কাছেই,
"কেমন করে ফিরলে তুমি?"
শুধোয় মেয়ে।
শ্যামল ছেলে নিবিড় করে
জড়িয়ে ধরে
দয়িতাকে,
বলল, "যখন মরণ প্রায়
গ্রাস করেছে,
তোমার কথাই মনে হতে,
নাকছাবিটা পকেট থেকে
হাতে নিলাম
মুঠো করে,
তারপরে যেই জ্ঞান হারালাম,
কলের পাখি খুঁজছে যখন,
নাকছাবিটা রোদের মাঝে
ঝলসে উঠে
পথ দেখালো,
চালক সেটাই নজর করে,
কলের পাখি নামিয়ে আনে
যথাস্হানে।
প্রাণ যদি আজ বেঁচে ই থাকে,
নাকছাবিটাই আনলো টেনে
প্রায় মরণের দরজা থেকে
এই আমাকে
No comments:
Post a Comment