অস্হির নগরপথের
দুধারে
ইঁটকাঠপাথরের
অনাবিল মেলামেশা
সুষমার মায়াজালে
শিল্প হয়ে ওঠে,
স্হাপত্য হয়েই ওঠে
নামেডাকে।
এহেন নিদাঘরাতে
নগরীর কোন পথে
কোন এক নাগরিক
নগরীনেশার
ঝোঁকে
ফুটপাথে রাত্রিশয্যা নেয়।
মধ্যরাতে ঘুম ভাঙ্গে,
সুখস্বপ্ন দূর হলে
পায়েপায়ে গৃহমুখী হয়।
রাজপথের দুধারে
অম্লান বাতিস্তম্ভ,
ফুটপাথের সংসার,
পথকুকুরে্র অসন্তুষ্ট ডাক,
চারপাশে ভয়ধরানো
নির্জনতা,
সারিসারি গাছ,
কেউ পথচারীকে
সঙ্গ দেয়নি,
তিরস্কার করেনি,
পরম ঔদাসিন্যে
স্হিতাবস্হা বজায় রেখেছে
মাত্র।
তার মহার্ঘ্য চামড়ার জুতো
মুখ বুঁজে ছিল,
বিরক্তি প্রকাশ করে নি।
যানবাহনের চিহ্ন
ছিল না।
হাসপাতালের পাশ দিয়ে যাওয়ার
সময় কিছু মানুষের
আনাগোনা ছিল,
অনাগত আসন্ন বিপদের
ছোঁয়ায় তারা উদ্বিগ্ন
অন্যমনস্ক ছিল।
পথচারীকে কেউ নজর
করেনি।
করলেও নেশাগ্রস্তের
প্রতি স্বভাবতই
দৃষ্টিপাতে তারা
আগ্রহী ছিল না।
চলতে চলতে
অন্ধকার কাটতে থাকে,
ভোরে্র ট্রামবাসের
আনাগোনা শুরু হয়।
বাতিস্তম্ভ ম্লান হয়ে আসে।
চাওয়ালা, ফুলের ব্যাপারীদের
পে্রিয়ে
মোড় ঘুরতে ,দেখা যায় কিছু
স্নানরত শ্রমজীবিদের,
রাস্তার কলে ঝরে পড়া জলে
ওরা স্নান সারে ,
পুরী তরকারীর ডেকচি নামিয়ে
সার্বজনীন জলযোগের আয়োজন
সে্রে শ্বাস নেয় দোকানী,
ফুটপাতে গরম চায়ের
স্বাদ নেয় নগরী,
ঠেলায় করে সবজী নিয়ে
পরিক্রমায় নামে ব্যাপারী,
দ্রুতগামী কাগজ ওয়ালারা
রাবারব্যান্ডে বাঁধা পাকানো খবরের
কাগজ অব্যর্থলক্ষ্যে ছুঁড়তে ছুঁড়তে
অদৃশ্য হয়।
শহর জাগছে রোজকার নিয়মমতো
মোড় পেরিয়ে গলিতে ঢুকতেই
চেনা পাড়া চেনা মুখ
উনুনের ধোঁয়া
কাজের মেয়েদের দ্রুতপায়ে
চলে যাওয়া,
জলকলে রোজকার ভিড়ে
চেনা মুখ চেনা হাসি
কিছু চেনা মুখে
চেনা কিছু বচসা।
চেনা সিঁড়ি বেয়ে ওঠা,
খুঁজে খুঁজে চাবি পেয়ে
তালা খুলে ঘরে ঢোকা।
পেতে রাখা বিছানা
আলমারি আলনা
রান্নাঘরে বেসিনের পাশে
ফেলে রাখা বাসনের পাঁজা।
ঘরে ধূলো
সবকিছু স্তব্ধ হয়ে থাকা।
সুখনীড় ছিল কিছুদিন আগে
মৃত্যু এসে কেড়ে নিয়ে গেছে
রেখে গেছে বিরহযাতনা,
ফেলে গেছে নেশাতুর মানুষের ছায়া
কাজ তার নেশায় নেশায়
শহরের পথে রাতে হাঁটা।
No comments:
Post a Comment