রাতমোহনা২:
রাতমোহনা নিশ্চিন্দিপুর পেরিয়ে
আমার বাড়ি তো,
সে বড় সুন্দর জায়গা
চারদিকে ঘন জঙ্গল
শাল সেগুন শিরীষ অর্জুন,
বট ,,জারুল আর ও কত অচেনা গাছ
কেমন জড়াজড়ি করে দাড়িয়ে
যেন একে অপরের হাত ধরেছে
পাছে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
জমি যেখানে ঢাল হয়ে নেমেছে
বরষার জল যেখান দিয়ে লাল হয়ে
গড়িয়ে যায়,
সেখানে পলাশের বন.
বসন্ত এলে সেখানে পলাশ ফোঁটে
চারধার আগুনে লাল
চোখ যেন জ্বলে যায়।
কততো রকম পাখি প্রজাপতি ময়ূ্র বনমোরগ,
পোকামাকড় বাঁদর কাঠবিড়ালীর মেলা যে,
বনভরতি হরিণ শুয়োর ,
আছে ভালুক চিতা বাঘ,
আর আছে বুনো মোষ হাতির পাল,
সে হাতির পাল যখন চলতে লাগে
অন্ধকারে কালোপাথরের মত ,
সবাই ভয়ে পথ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
শীতকালে সারস বক বুনো হাঁসের দল
বিলের জল ঢেকে ফেলে।
তারা নাকি ওই পাহাড়ের ওপার থেকে
দূর কোন দেশ ডিঙ্গিয়ে উড়ে আসে।
কত পাখির কত ডাক
মন কেমন করে ওঠে
কত রকম কত রঙের ফুল
কত রকমারি ফল,
আর আমাদের গ্রাম ,
কুলুকুলু বয়ে যাওয়া রঙ্গিলার পাশে
ঘন বনের ধারে,
সেকি ঘন জঙ্গল,
কাকপক্ষী ও ঢোকে না,
দিনের বেলায় ও সেইখানে
সূর্যের আলো পৌছায় না
গা ছমছম করে একটুকু গেলে
মনে হয় অন্ধকারের আড়ালে
হাজার চোখ চেয়ে চেয়ে আছে
একটা পাখির ডাক নেই
নিঃঝুম নিঃশব্দ,
দল বেঁধে শিকারীরা যায়
মানত করে ,,,তবে,
আর কেউ না,
ভেতরে না কি দেবতারা থাকেন,
তারা রাগ করেন কেউ গেলে.
গত বছর পূজা না দিয়ে মংলু শিকারে গেল বটে,
তো আর ফেরে নাই,
বুড়ী মা তার কেঁদে কেঁদে
পাগল হলো,
লোকে বলে গুনীণ তাঁরে বাণ মে্রেছে
কে জানে কি?
তবে গাঁওবুড়ারা খুব রাগ করলো
গুনীণকে বললো অনেক কথা।
তারপর সেও গায়েব,
কিজানি দেও রাগ করে তারেও
টেনে নিলো কি না?
তবে কিনা কেঁদো বাঘটা কদিন
ধরে ঘুরপাক দিচ্ছিলো
গরুছাগলটার সাথে টুকুন
গুনীণটাকেও নিলো নাকি?
পাজির পাঝাড়া বদমাস একটা।
না বাঘটা নয়,
গুনীণটা,
আমাদে্র পরব কালকে,
নূতন কাপড় পরবো
মাথায় ফুল,
চোখে কাজল,
পাখীপাহাড়ে দেওতাদের থানে যাবো,
পূজা হবে নাচ হবে,
বাজবে বাঁশি মাদল ধামসা
মহুয়ার নেশা হবে,
সারারাত পরব চলবে,
কতজনে মন দিবেনিবে
কে কোথায় কাকে বাজাবে
কে বাজবে কে জানে।
বড় মিঠা দিন বটে আজ,
আজকে রাতে চাঁদ আছে তো
কে বটে বাঁশি বাজায় এমন সাঁঝে
এটা আমার ই মরদ বটে!
ওই দেখো তাঁর কালোবরণ দীঘল শরীর
আঁধার কেমন আলো হয়ে জড়িয়ে থাকে
পিঠের পেশী নড়ছে কেমন সুরে্র তালে।
বাঁশিটা ও বাজায় বটে,
শরীরটা যে আর বশ মানে না
চাঁদ ও কেমন
মিটিমিটি হাসে,
বন পাহাড় ও দুলতে থাকে
পাহাড় আকাশ কেমন করে ঝুঁকে পড়ে,
গাছগাছালির ছায়া ছিল
তাই বাঁচালো,
তাই রক্ষে।
তারপর সারারাত ধরে
বাঁশি টা বাজতেই থাকে।
কখনো এলোমেলো,
কখনো সুরে তালে।
No comments:
Post a Comment