লম্বাবেণী
এক #
আবার আমি পথ খুঁজেছি নির্জনতায়
বুঝি পথের বাঁকে লুকিয়ে থাকে
অনেক চমক, অনেক মধুর স্মৃতিকথা।
চাইলে ফিরে পিছনপানে
কত মুখের আনাগোনা
বিষাদরেখা
তীক্ষ্ণ চোরা চাউনি কত
উজল চোখের বিজলী হেনে
প্রণয়রেখায় জ্বলেনি তো
আখর হয়ে
মনের কথা।
হঠাৎ কেমন ভেসে ওঠে
অনেক ছবি ভাসা ভাসা
এই তো সেদিন,
শরৎমেঘের কোমল ছায়ায়
পথের দিকে তাকিয়ে থাকা,
লম্বা বেণীর সাথে তখন তুমুল লড়াই
অনেকদিনই হয়নি দেখা,
হয়নি কোনো প্রাপ্তি চিঠির
চন্দনের ওই সুবাস মাখা
সাদা খামের আড়ালঘেরা
আবেগমাখা।
সামনে পুজো ,তারই আগে
পড়ার চাপে মগ্ন থেকে
ঘোরের মধ্যে আসা যাওয়া
মনের মধ্যে কোথায় যেন
পাতাঝরার শব্দ শুনি,,,,
শীত কি এলো শরৎ জুড়ে?!!
অকালঋতুর এমনই কি হয়
আসা যাওয়া?!!
দুই #
আকাশজুড়ে সাদা মেঘের পলেস্তারা
ফাঁক দিয়ে ওই নামছে কেমন
শারদরবির অমল আলো,
জগৎ এখন আগমণীর সুর শুনেছে,
আনন্দেরই ঝরনাধারায় সিক্ত হয়ে,
অজানা কোনো নেশার ঝোঁকে
মাতোয়ারা।
এমনি সময়ে হঠাৎ ঝোঁকে
খাতাবই সব দূরে রেখে পথে নামি।
দাঁড়িয়ে আছি পথের পাশে
সময় কেমন কাটছে না তো!
হয়ত সে আজ চলেই গেছে
আসবে না আর,,,,আজকে সেতো,
কয়েকটা ওই সিগারেটের
জ্বলে যাওয়া সাঙ্গ হতেই
বুঝছি এবার সময় এলো
ফিরে যাবার।
এমনি সময়ে কারোও একটা মৃদু গলা
কানের কাছে...
'দাঁড়িয়ে আছো 'যার মায়াতে,
'সে তো এখন চলেই গেলো,
সময় এখন তোমার হাতে
চাও তো ধরো
গেল তো সে ওই ওদিকে'...
তিন #
হঠাৎ কেমন চারদিকেতে
আলোয় আলো!
জোরকদমে চালাই জোরে
সাইকেলটা কি হাওয়ায় ওড়ে?
কয়েক কদম এগিয়ে গিয়েই
দাঁড়িয়ে পড়ি।
দেখি, সামনে এসে পড়লো
যে ওই শ্বেতাম্বরী।
যুগল ভুরুর মধ্যিখানে শুভ্র ফোঁটা,
নাকুঞ্চিত চুলের বেণী দুলছে কাঁধে।
চোখের কোণে ঝিলিক মারে
কাজলরেখা,
দীঘল চোখে বিজলী জ্বলে
গালের ভাঁজে কোমলরেখা।
বিষণ্ণ কোন কপাল জুড়ে চুলের গোছা।
মৃনাল বাহু, মরাল গ্রীবা, সরস অধর
কোথায় যেন লেগে আছে শোকের ছায়া।
আঁচলজুড়ে শ্বেতপ্রভাস
শরীর যেন মেঘলা আকাশ
মাঝে মাঝে বিজলী ঝরে,
নিম্ননাভির প্রতিবেশী
সীমারেখায়
কোমর বাঁকে,
বিপজ্জনক গোঁলকধাঁধায়
একনিমেষে পথ হারালাম,,,,
ফিনিক্স পাখির মত আমি
ভস্ম হয়ে,
এই আমিটা জন্ম নিলাম।
এখন আমি যাবো কোথায়?
অন্ধ আমি ছুঁতে যে চাই
তোমার কপোল।
দীর্ঘশ্বাসের ভঙ্গিমাতে
পেতে যে চাই চন্দনাভাস ,
সুবাস হয়ে জড়াও আমায়।
বাহুলতার বাঁধন তোমার শক্ত করে
বাঁধো আমায়......
চার #
কেমন করে বোঝাই তোমায়
বসে আছি তোমার আশায়
ভ্রংশ না হয় হলই আমার
কনক বলয়!!
শীর্ণবাহু দৃষ্টিকটূ,
তাতে তোমার কি আসে যায়?
বলতে আমি চেয়েছিলাম,
"লম্বা বেণী,রাগ কোরো না,
ফিরে এসো আমার কাছে,
বৃষ্টি হয়েই ঝরবো আমি
নইলে হবো মলয় বাতাস,
ভাববো যখন তোমা্র কথা,
আকাশ জুড়ে পাবে
আভাস,
বিন্দুবারিধারা হয়ে
পড়বো ঝরে বিম্বাধরে,
নইলে ভিজে বাতাস হয়ে
তোমার গ্রীবায় চুমু খাবো,
তুমি
বকুলফুলের গন্ধ পাবে।"
বলতে কিছুই পারিনি তো
কেবল হাসি, কেবল বলি
করবে দেখা কালকে কোথাও...
কথা আছে।
লাগছে নাতো ভালোই আমার
নেই যে দেখা তোমার সাথে
কবে থেকে.......
দৃষ্টি তোমার কোমল হল,শ্বাস যে গাঢ়,
কখন, কোথায়, জানতে চেয়ে
তাকিয়ে আছো।
বাড়িয়ে দেওয়া হাতের ওপর
সাদা খামের ঘেরাটোপে
অ নে ক কথা।
ছোট্ট কিছু কথা লেখা একটি চিঠি
বাড়িয়ে দিলাম তোমার দিকে।
জবাব দিলাম,
'ওই যে দূরের বনবীথি, ওইখানেতে
দুপুরবেলা,, আগামীকাল ঠিক বারোটায়।'
চন্দনের গন্ধ ভাসে
শ্বেতাম্বরী,
তোমার ওই শ্বেতবরণা
আঁচল বেয়ে
তোমার চোখে খুশীর ঝলক,
খুশির হাওয়ার ঝাপটা লাগে
আমার প্রাণে চোখেমুখে।
আমি বিবশ হয়ে রই যে চেয়ে।
তারপরে কি??
চলে গেলে মৃদু পায়ে
ঘরের পানে।
জানি দ্বিপ্রহরে বাজবে বেণু
দেখা হবে তোমার সাথে
আগামীকাল।
কালকে আমার ইচ্ছে আছে
মনের কথা খুলে বলার
কত কথাই হয়নি বলা
হয়নি নেওয়া ছোট্ট শপথ
সারাজীবন একইসাথে
পথ যে চলার
সারাজীবন তোমায় ই কেবল
ভালবাসার।
♧♧♧♧♧♧♧♧
Bah
ReplyDelete