পর্ব৪
:
কুয়াশায় ঢাকা মাঠে
ইঁদুরের আনাগোনা
শরতের ফেলে রাখা
ধানের গোছার পরে
লেগে থাকা দুএক
দানার খোঁজে।
শীত নেমে আসে
ম্লানমুখ সূ্র্যসখা হয়ে।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
অন্যমনস্ক আরোহী ঘরমুখী হয়। বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে সূর্য রক্তিম হয়ে ওঠে।চলনেবলনে বাতাস অতি যে মন্দ।শেষবেলার সুর বাজতে থাকে।আলো কেমন নরম হয়ে আলতো করে ছড়িয়ে পড়ে সামনে্র আমগাছ জামগাছের পাতার উপর ।তারপর হঠাৎ ,তিরতির করে কাঁপতে কাঁপতে কাঁঠালগাছে্র তেজপাতাগাছে্র উপর লুটোপুটি খেতে খেতে সামনের বড় ঘাসেঢাকা মাঠে্র উপরদিয়ে গড়াতে গড়াতে দূ্রে হারিয়ে যায়।হঠাৎ কেমন দমকা হাওয়ায় মাঠে্র ধূলো উড়তে থাকে।
সামনের পুকুরে ভাসতে থাকা হাঁসেরা হঠাৎ কি ভেবে পাড়ে উঠে ঐক্য তানে ডাকতে শুরু করে।তারপর হঠাৎ বাড়ির দিকে রওনা হয়।পুকুরপারের জঙ্গলে হঠাৎ ই ডাহুকের তীক্ষ্ণ চিৎকারে উড়তে থাকা কাকেরা হঠাৎ ই কা কা করতে করতেএদিক ওদিক অদৃশ্য হয়।ব্যস্তবাগীশ চড়ুইগুলো কার্নিশের ঘরের কোনে্র নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে।পায়রাগুলো নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়েছে।
পাড়ার মধ্যে ঢুকতেই চেনামুখগুলো্র দেখা।বাতাসে
শেষবেলার ঠান্ডার ছোঁওয়া।সাইকেল সরিয়ে রেখে বালতি করে কুয়োর জল তুলে হাতমুখ ধুয়ে পায়ে জল ঢালতে ঢালতে মা বেরিয়ে এলেন।প্রাইমাস স্টোভের সোঁসোঁ আওয়াজ কানে আসে।মা খুশী মুখে বললেন,"ডালপুরী বানিয়েছি"। কাল রবিবার।গরম স্বাদু ডালপুরী আর ও স্বাদু হয়ে ওঠে ।খেয়েদেয়ে আর একবার বে্র হই ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রে্রীর পথে।কদমতলা হয়ে রূপশ্রী সিনেমা হল,থানা,পোষ্টঅফিস পে্রিয়ে পাওয়ার হাঊস ডানদিকে রেখে আর ও কিছু এগিয়ে লাইব্রে্রী।দোতলায় উঠে লাইব্রে্রীয়ান অজয়দার সামনে দাড়াতে উনি খুশী হয়ে হাসলেন"কি পড়ুয়া,অনেকদিন দেখা নেই!" আমি হেসে হাতের বইটা সামনে টেবিলে্র উপর রাখলাম।তারপর বইয়ের তাকগুলোর সারির মাঝে ঢুকে পড়লাম।বই বাছতে বাছতে একটি জায়গায় চোখে পড়ল বই এর শিরোনাম"মেঘদূতম্"।কালিদাসের বিখ্যাত কাব্যে্র তখন নাম ই শুনেছি।পাতা উল্টে দেখি সাহিত্য সংসদের ত্রিভাষিক বাংলা সংস্কৃত ইংরেজীর সংকলন।
পড়ি সেই সেই আশ্চর্য কাব্যগাথা।অস্তংগমিতমহিমা যক্ষ পাহাড়চূড়ায় বসে,বিরহকাতর,বাহু শীর্ণ হয়ে কনকবলয় ভ্রংশ হয়েছে।এমনি সময় ঘোর কাটে।একটা বই বেছে নিয়ে নথিভুক্ত করিয়ে বে্রিয়ে আসি।জোৎস্নাভরা আকাশে মেঘের আনাগোনা।আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু স্হির হয়ে দাঁড়াই।পূর্ণিমার চাঁদ
মেঘের আড়ালে কখনো অদৃশ্য হচ্ছে, কখনো কৌতুকে ভেসে উ়ঁকি মারছে।বড়ো মায়াবী রাত।বড়ো মায়াভরা চাঁদ।অসীম আকাশে ঝিকিমিকি তারার মেলা।ধূলোর মতো।stardust.ছায়াপথ।আর ও পরে এমনি এক জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে পড়েছিলাম তারার দেশে অভিযানের এক অত্যাশ্চর্যকাহিনী,,আইজ্যাক আসিমভের "নেমেসিস"।কিন্তু আজ মেঘদূতের
দিন।
"কিছু মেঘ আসে মল্লার হয়ে,
কিছু মেঘ জমে চোখের তারায়,
কিছু মেঘ নামে ঘুমপাহাড়েতে,
কিছু মেঘ কেন কুয়াশা হয়ে যে
হৃদয়ে ছড়ায়।
কিছু মেঘ কেন মেঘদূত হয়ে
যক্ষপ্রিয়ার সমীপে দাড়ায়।
কিছু মেঘ জানি জল হয়ে ঝরে,
কিছু মেঘ কেন আকাশ ছেয়ে যে,
ছায়াবীথিময় আঁধার ঘনায়।"
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাস্তার পাশে্র বাড়ি থেকে ঘোষিকার গলা স্পষ্ট শোনা যায়,,,,,,,খবর পড়ছি নীলিমা সান্যাল।বাড়ি পৌঁছে ঘরে ঢুকতেই শুনি," স্হানীয় সংবাদ,পড়ছি দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়"।
৭-৪৫রাত।একটা দিন পার হয়ে গেলো।
রবিবার সকাল ৬-৫৫।প্রায় দৌড়ে অংকের টিউশন স্যারের বাড়ি।সত্যি বলতে উনিই আমায় অংককে ভালবাসতে শেখান।অনেক ধৈর্য আর মনোযোগ দিয়ে পড়িয়ে।দুমাস আগেও জ্যামিতির যে extraগুলো দুর্বোধ্য মনে হতো সেগুলো এখন আমার কাছে মজার ধাঁধা।যেগুলো ভেঙ্গেচুরে খুব মজা পাই।খুব মন দিয়ে অংক করতে করতে সুরেলা গলার আওয়াজে সম্বিৎ ফেরে।নীচু খাটে বসে ছিলাম জানালার দিকে মুখ করে।একটি বাচ্চা দৌড়ে যায়।পিছনে এলোচুলো এক ফ্রক পরা কিশোরী।কৌতুহল সংক্রামক রোগের মতো।যেতে যেতে আয়তনয়না সুশ্রী কিশোরী ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়।গম্ভীর মুখ,সংকোচহীন দৃষ্টি।
আমি বইয়ের পাতায় চোখ নামাই।পড়ানো চলতে থাকে। ৮-৫৫ বইপত্র গুছিয়ে উঠে পড়ি।দরজা দিয়ে বেরিয়ে কাউকে খুঁজি কি!
"কোন এক বাঁশি বাজছে কোথাও
আবেশ জাগানো অতি প্রিয় দিন"।
রাস্তায় উঠতেই সামনের জানালায় পর্দার ফাঁকে সেই কৌতূহলী চোখমুখ।স্পষ্টতঃ গম্ভীর নয়।
বাড়ি ফিরতেই রেডিওতে পঙ্কজবাবুর সঙ্গীতশিক্ষার আসর।রান্না ঘর থেকে ভেসে আসে কষা মাটনের সুগন্ধ।আজ রবিবার।দুপু্রে একটায় রেডিওনাটক।পাঁচপদে মাংসভাত।মাংসের চেয়ে বেশী দামী মাংসের ঝোলে দেওয়া আলু।রবিবাসরীয় ক্রোড়পত্র।গল্প পড়তে পড়তে চোখে ঘুম নেমে আসে।আহা কি ভালো দিনটা।
No comments:
Post a Comment