কল্পনা৩:
♡এক♡
অকাল বরষা শেষে দশদিগন্ত
সিক্ত স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে।
দেবকূল গগনতল পরিত্যাগ করে
স্বর্গাভিমুখী হন।
শুধু শূন্য আকাশে প্রসন্নমনে
বিচরণ করেন চন্দ্রদেব।
ভগ্নচন্দ্রের স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নায় বিশ্বজগৎ
আলো ও আঁধারের
পর্যায়ক্রমিক খেলায় মগ্ন হয়।
নির্জন আকাশের কোণে শুধু মেঘবালক ও মেঘবালিকার দল প্রতীক্ষায় থাকে।
দেবকূলের অনুপস্হিতিতে মেঘবালক ও মেঘবালিকা মহানন্দে নগরের উপর দিয়ে পরিক্রমন করে।
অতি সন্তর্পনে তারা নেমে আসে
ভূমিতলের কাছাকাছি বৃক্ষপত্রচ্ছায়ার উপর।
নিম্নে নগরপ্রাকারে প্রহরীর দল
পর্যায়ক্রমে প্রহরায় গতিমান।
প্রাকারগাত্রে মশালের আলো উজ্জ্বল বহ্নিমান।
ফলতঃ
নগর প্রাকারের বাইরে অনেকদূর পর্যন্ত দৃশ্যমান।
অনতিদূরে নগরগিরিশীর্ষে নগরবহ্নি
দীপ্ত উজ্জ্বল হয়ে নগরের গরিমা প্রকাশ করে।
নগরবেষ্টন করে নাতিদীর্ঘ প্রস্তরস্তম্ভের মাথায়
সারিবদ্ধভাবে বৃত্তাকারে মশালের সারি প্রজ্জ্বলিত।
যেকোন গতি সঞ্চালন বহুদূর পর্যন্ত
আলোকশিখায় দৃশ্যমান।
প্রহরে প্রহরে ঘন্টাধ্বনির সাথে মশাল পরিবর্তিত হয়।
প্রহর ঘোষনার জন্য দুন্দুভিনাদ হয়।
মেঘবালক ও মেঘবালিকার দল নগরের পথ অতিক্রম ক'রে বিপুল হর্ম্যরাজির উপর দিয়ে বিলাসবীথিকার ছায়ায় ঢাকা জলধারা ও সরোবরের উপর দিয়ে বিচরণ করে।
নীচে নজরে আসে আলো ,হাস্যমুখ
নাগরিক ও নগরকন্যার দল।
ক্রীড়ারত শিশু বিক্রেতার দল,বিপনীমালা,
পথচারী, অশ্বারোহী, গূঢ়পুরুষ, রাজপুরুষের দলকে
অতিক্রম করে তারা এক সুরম্য কুটির প্রাঙ্গনের উপর ভেসে আসে।
♡দুই♡
সুসজ্জিত গৃহ আলপনায় ও দীপমালায় ভূষিত।
গৃহস্বামী, গৃহস্বামিনী, পুত্রকন্যা, দাসদাসী, অশ্বশালা, গোশালা, গৃহপালিত সারমেয়, মার্জার, ময়ূর, এবং রাজহংসের দল গৃহের শোভা বর্ধিত করছে।
এমনসময় গৃহস্বামীর নববিবাহিত পুত্র এবং পুত্রবধূ ঘর থেকে নিষ্ক্রান্ত হল নগরদেবতার মন্দির গমণের জন্য।
পুত্রটি বয়সে যুবা, উজ্জ্বলচক্ষু, সুদেহী।
তার কেশ দীর্ঘ কৃষ্ণবর্ণ এবং কুঞ্চিত।
স্বভাবতই সে কৌতুকপ্রিয়।
পুত্রবধূ আয়তনয়না, শ্যামা।
তার দীর্ঘকেশ বেনীসংহারের পর আজানুলম্বিত, কৃষ্ণ ও অনতিকুঞ্চিত।
তার দৃষ্টি চঞ্চলা, মুখমন্ডল হাস্যমন্ডিত।
মহার্ঘ্য বস্ত্র এবং অলংকারে ভূষিতা হয়ে সে দীপ্তিময়ী।
তার হাতে পূজার নৈবেদ্যপাত্র।
অনুগামী দাসীদের যুবক সস্নেহে হস্তসঞ্চালনে নিষেধ করলো।
নবদম্পতি একটু নির্জনতার প্রত্যাশী।
স্মিতমুখে দাসীরা নিরস্ত হল।
অশ্বপালক শ্বেতশুভ্র এক অশ্বের লাগাম ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে এল।
প্রভুর দর্শনে প্রিয় অশ্ব প্রীত হয়ে উঠলো।
গ্রীবাসঞ্চালনে এবং হ্রেষাধ্বনিতে তার হর্ষ প্রকাশিত হল।
নবদম্পতি অশ্বারোহনে মন্দিরমুখী হলেন।
যৌবনরোমাঞ্চে মেঘবালক মেঘবালিকারা হরষিত নিমজ্জিত হলেন।
তরুনীবধূর বসনপ্রান্ত হতে কস্তুরী গন্ধের আভাস আর চন্দনগন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল।
মেঘবালক ও মেঘবালিকারা নবদম্পতিকে অনুসরণ করলো কৌতূহলী হয়ে।
আকাশ বাতাস এক নবসম্ভাবনায়
উদগ্রীব হয়ে উঠলো।
♡তিন♡
গৃহপ্রাকার দাসদাসীর দল দৃষ্টির বাইরে যেতেই তরুণী বধূ যুবকের কটিবেষ্টন ক'রে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে।
প্রফুল্ল যুবক দ্রুত অশ্বচালনা করে।
মন্দিরের পথ ত্যাগ করে সে উদ্যানমুখী হলো।
কারন বনবীথিতলেই তো প্রণয়কূজন মধুময় হয়।
আবহাওয়া আজ মনোরম।
অকাল বর্ষণে দশদিক স্নিগ্ধস্নাত।
উদ্যানপুষ্পবীথিকার তলে সবুজঘাসের উপর দম্পতি উপবিষ্ট হল।
সময় কোথা দিয়ে অতিবাহিত হল কেউ জানেনা।
দুইটি প্রাণ মধুরালাপের সরণী বেয়ে ক্রমশ পরষ্পরের মনকে স্পর্শ করলো।
আকাশ বাতাস সত্যিই মধুময় হল।
মেঘবালক বালিকারা পরম প্রীত হয়ে কোলাহলমত্ত হয়ে উঠল।
নবীনযুবক আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত ক'রে মনে মনে বৃষ্টিপাতের প্রার্থনা করতে লাগলেন।
মেঘবালক বালিকারা সেই প্রার্থনায় অস্হির চঞ্চল হয়ে উঠলো।
♧♧♧♧♧♧♧ 卐 ♧♧♧♧♧♧♧
No comments:
Post a Comment