Monday, 2 January 2017


ঘুমপাহাড়ি:২

ঘুমপাহাড়ির চূড়ায় বসে
ভাবছি
আসছে বাদল,
কৃষ্ণকেশর ফুলছে
তরুণ বটের নরম ছায়া,
একটু আড়াল দেয় যদি আজ,
যেমন জোরে হানছে যে বাজ
আলোর ঝিলিক মুহুর্মুহু,
কাঁপছে হিয়া দুলছে যে গাছ,
হঠাৎ করে জলের ধারা নামল,
শুরুতে ওই টাপুসটুপুস
বটের পাতা নড়ছে
একটু সময় ঝুপুসঝুপুস
তারপরে তে ঝমঝমিয়ে
সবুজ বটের শিয়র ভিজে
কান্ডদেহ সব ভিজিয়ে
জলের ধারা ভিজিয়ে দিল
পায়ের নীচের কোমল যে ঘাস
বনপাহাড়ীর বৃষ্টি এবার নামল।
অঝোর ধারায় বাতাস এখন মিশছে
ধোঁয়ার মত জল আর বাতাস ভাসছে
চোখের পরে মুখের পরে
জলের কোমল ছাঁটের ছোঁয়ায়
শীতল অমল আনন্দ যে হাসছে,
বটের শিয়র দুলছে কেমন
ঘাসের ওপর জলের ধারা
নদীর মত ধারায় বয়ে চলছে।
আমার মাথায় জলের ফোঁটা
ধারায় ধারায় পালটে কেমন যাচ্ছে,
হঠাৎ এলো দমকা হাওয়া
উথালপাথাল আসা যাওয়া
শরীর জুড়ে জলের ছোঁয়া
আমার হৃদয় আমার শরীর
বাদলধারায় ভিজছে,
ভিজল মাথা ,ভুরুর রেখা,
ভিজল কেমন চোখের পাতা,
চোখের নীচে কপোল ভেসে
নামছে যে জল শরীর জুড়ে,
সঙ্গে নামছে মধুর শীতলতা।
দাঁড়িয়ে থাকি চোখটি বুঁজে,
বজ্রপাতে পাহাড় কাঁপে
একটু পরে বাদল ধারা থামল।
ঘুমপাহাড়ী উঠল জেগে,
দোয়েল ফিঙ্গে বুলবুলিরা,
সঙ্গে আরো অনেক পাখি,
কাঠবিড়ালীর লাগল মেলা,
ফড়িং পোকা পিঁপড়ে যতো
প্রজাপতির উড়ে যাওয়া,
দূর আকাশে চিলের ওড়া,
বনপাহাড়ী উঠছে জেগে
তুমুল ধারাপাতের শেষে,
রোদ উঠেছে মেঘ কেটেছে,
মাথার উপর উঠছে জেগে
সাতরঙা ওই অমল আকাশ
কোমল ভারী,

No comments:

Post a Comment