Monday, 2 January 2017


নাকছাবি ২:

শ‍্যামলাবরণ মেয়ের মনে মেঘে্র ছায়া
নাকছাবিটা কালকে থেকে কোথায় গেল?
অনেক খুঁজেও যায়নি পাওয়া।
দিনমানে কাজের চাপে,
হয়নি খেয়াল আছে কি নেই,
হয়নি সুযোগ দর্পণে
তার মুখটি দেখার,
হয়নি দেখা সূর্যপ্রভ নাকছাবিটার
ঝলকটুকু,
হয়নি সুযোগ একটিবার ও
ছুঁয়ে দেখার।
খোঁজা হল আতিপাতি সারাবাড়ি,
ঘরে্র মেঝে কোনে কোনে,
বিছানা বালিশ শাড়ির ভাজে,
রান্নাঘরে পূজোর আসন
এমনকি ওই কুয়োতলা ফুলে্র বাগান,
যত্ন করে সাজিয়ে রাখা ফুলে্র টবে,
খোঁজা হল স্নানে্র ঘরে বাড়ির উঠোন,
পাখির খাঁচা ছাই এর গাদা,
ইতিউতি যেদিকে তার চোখ যেতে চায়,
এমনি কোথায় সর্বঘটে।
শ‍্যামল ছেলে নেই তো বাড়ি,
শ‍্যামলা মেয়ে্র মন যে ভারী,
শ‍্যামলা মেয়ে সবার প্রিয়
তার দুখে যে সবাই দুখী,
শ্বশ্রূমাতা বলেন এসে,
মাথার উপর হাতটি রেখে,
"দেখো পাবে মা ঠিক ই খুঁজে"!
সাধে্র ননদ পাশে বসে
বললে,"দেখো,পাবে আজ ই খুঁজে"
কাজের মেয়ে বললো,"দিদি,যাবে কোথায়,
ঝাঁটা দিয়ে ঝাড়বো যে ঘর,ঠিক বের
করবো খুঁজে,"
এমনি করে দিন যে গেল,
সন্ধ‍্যা এল,চারিদিকে আঁধার ঘন
তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বলে,
শঙ্খ বাজে ঘরে ঘরে,
মুখ শুকিয়ে শ‍্যামলা মেয়ে
ভাবছে কখন ফিরবে ঘরে শ‍্যামল ছেলে।
এমন সময় ঘন্টি বাজে দরজা খোলে
ঘরে এল শ‍্যামল ছেলে
স্মিতহাসি ঠোটের কোনে,
সবাই মিলে জুটল এসে
খবর দিল সবিস্তারে
নাকছাবিটা সবার প্রিয়
আর ও প্রিয় শ‍্যামলা মেয়ে।
উদাস মুখে শুনলো ছেলে
বললো শেষে,"নাকছাবি তো একটা মোটে,
না হয় আবার গড়িয়ে দেবো,হারালো
তো কি হয়েছে?!"
সবাই ভীষণ রেগেই গেলো,
ছেলে্র এমন কথা শুনে,
ননদ দেওর শ্বশ্রূ শ্বশুর
দুচার কথা দেয় শুনিয়ে।
উদাসমুখে শ‍্যামল ছেলে ঢুকল
গিয়ে স্নানের ঘরে
চায়ের কাপ আর জলখাবারের
থালা নিয়ে ,
ঢুকল ঘরে শ‍্যামলা মেয়ে,
স্নানটি সেরে বে্রিয়ে এসে
শ‍্যামল ছেলে ফেলল হেসে
এত ই দামী নাকছাবিটা,
হেলায় কেন হারাও তবে?
অশ্রু এবার বাঁধ মানেনি
পড়ছে কেবল কপোল ভেসে,
"তাই বলে কি বলবে তুমি,নাকছাবি
তো একটা মোটে"!
শ‍্যামল ছেলে পাশ কাটিয়ে
গেল কোথায় করতে কিছু,
একনিমেষে ফিরে এলো,
প্রসারিত বন্ধ মুঠি,
ক্ষণিকপরে খুলতে মুঠি
নাকছাবি যে উদ্ভাসিত,
বলল ছেলে মৃদু হেসে
"লেগে ছিল পান্ঞ্জাবীতে
ভো্রবেলাতে পড়ল চোখে,
এবার পরে নাও তো নাকে,
খালি খালি লাগছে কেমন
সকাল থেকে,"
শ‍্যামলা মেয়ে ছুট্টে গিয়ে
মুখ লুকোলো ছেলের বুকে।
জানলা দিয়ে উঁকি মেরে
চাঁদতারারা হাসতে থাকে।

No comments:

Post a Comment