কল্পনা:৪
এক।।
অস্হির মেঘবালক বালিকার দল
উদ্যানবীথির উপর ইতস্তত
সঞ্চারণ করতে লাগলো।
দিকপালগণ কৌতূহলী দৃষ্টি ন্যস্ত করে
মেঘবালক বালিকাদের অস্হির সঞ্চালনের
গতিপথ নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।
নবীন যুবক অকস্মাৎ মেঘমালার
অস্হির সঞ্চালন লক্ষ্য করে পুলকিত হয়ে উঠলেন।
ভাবতে লাগলেন মধুময় মেঘ কি বারিধারার সূচনা করবে?
পর্জন্যদেব স্বর্গসভা পরিত্যাগ করে দিকদর্শনের জন্য গগনতলে আবির্ভূত হলেন।
দিকপালগণ সবিনয়ে সন্দেশ নিবেদন করলেন।
প্রসন্নচিত্তে পর্জন্যদেব মেঘবালক বালিকাদের আহ্বান করলেন।
বললেন, 'তোমাদের অস্হিরতার কারন কি?' নিজেদের চপলতার জন্য লজ্জিত মেঘবালক বালিকারা নতমুখে পর্জন্যদেবকে প্রণাম জানিয়ে নিরুত্তর হয়ে রইল।
পর্জন্যদেব বললেন, 'অনাবশ্যক অস্হির না হয়ে পুঞ্জীভূত হয়ে ধারাধারণ করো এবং শীঘ্রই বৃষ্টিপাতের জন্য তৈরি হও।'
মেঘবালক বালিকার দল উৎফুল্ল হয়ে ঊর্ধ্বাকাশ অভিমুখে ধাবমান হলো।
দশদিগন্তের কোণে কোণে তারা ছড়িয়ে পড়ল।
নবীন জলধারাভারে মেঘমালার মধ্যে
অশনিসংকেতের সূচনা হল।
ঊর্ধ্বে দৃষ্টিপাত করে যুবক হরষিত হয়ে উঠলেন।
নবীনা বধূ যুবকের দৃষ্টি অনুসরণ করে
বিজুরীরেখা ও কৃষ্ণশোভা দর্শনে উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন।
ইতস্তত সঞ্চারমান কাঠবিড়ালী ময়ূর
রাজহংসরা বর্ষণ সম্ভবনায় চঞ্চল হয়ে উঠল।
সমস্ত পক্ষীদল বৃক্ষশাখা আশ্রয় করে
কূজনমত্ত হয়ে উঠল।
নগর প্রাকারের রক্ষীরা সতর্ক হয়ে উঠল।
নাগরিককূল দ্রুত গৃহাভিমুখে হল।
বাতাস উচ্ছ্বল হয়ে শুকনো পাতার সম্ভার নিয়ে ক্রীড়ারত হল।
দেবপ্রভাকর তাঁর দীপ্তি হারিয়ে ম্লানমুখ হয়ে উঠলেন।
সপ্তাশ্বগণ আসন্ন বারিপাতের সম্ভাবনায় ধীরে ধীরে পশ্চিমমুখী পরিক্রমা শুরু করলো।
সমস্ত বিশ্বজগৎ জনপদ অরণ্য সাগর উন্মুখ হয়ে উঠলো।
ধীরে ধীরে বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেলো।
নদীপথযাত্রী সমস্ত তরী নৌকা ধীরে ধীরে গতি হ্রাস করে কূল অভিমুখে অগ্রসর হলো।
মাঝিমাল্লারা যথাবিহিত প্রস্তুতিমত জলযানগুলিকে তীরসংবদ্ধ করে রজ্জুসন্ধানে রত হল।
দুই।।
নবীন যুবক বরষা সম্ভাবনায় উৎফুল্ল হয়ে পত্নীকে বললেন, 'চলো আজ আমরা নবীন বরষায় স্নাত হই।'
দুইজনে পরষ্পরের হস্তধারণপূর্বক
বৃক্ষতলের পত্রাচ্ছাদন ত্যাগ করে উন্মুক্ত মেঘময় আকাশের নীচে এসে দন্ডায়মান হলেন।
অকস্মাৎ তীব্র নিনাদের সাথে ইন্দ্রদেব বজ্র নিক্ষেপ করলেন।
বজ্র বিদ্যুতের লেলিহান আলোক বিস্তারে বিশ্বজগৎ আলোকিত হয়ে উঠল।
তীব্র নিনাদপূর্বক বজ্র ভূতলে বৃক্ষশীর্ষে পতিত হল।
আতঙ্কিত বধু দয়িতের বক্ষে মুখ ন্যস্ত করে সভয়ে তাকে আলিঙ্গন করলেন।
প্রণয়বিস্তারী সেই নিঃশর্ত আলিঙ্গনে-বদ্ধ যুবক পত্নীকে পরম প্রেম ও মমতায় বাহুবদ্ধ করলেন।
নবদম্পতি হরষিত হলেন।
যুবক বজ্রদেবকে জনান্তিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেনএবং পত্নীর অঙ্গরাগ ও বসননিসৃত চন্দনসুবাসে নিমজ্জিত হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করলেন।
মেঘবালক বালিকার দল সেই মধুর দৃশ্য অবলোকন করে যুগপৎ রোমাঞ্চিত ও আহ্লাদিত হয়ে বর্ষার সূচনা করলো।
সমস্ত গগনতল তাদের পদচারণায় বাষ্পসুবাসে পরিপূর্ণ হল।
পর্জন্যদেব আনন্দিত হয়ে সবাইকে আশীর্বাদপূর্বক মেঘবালক বালিকাদের বললেন, 'বারিধারা নিরবচ্ছিন্ন না হলেই ভালো।ভূমিদেব অবসর পাবেন বারিধারাকে আত্মসাৎ করবার।'
বারিপাত কখনো মন্দ কখনো গতিমান হয়ে
মেঘবালক বালিকাদের রসরঙ্গের কারণ হয়ে
উঠলো।
ধরনী যুগপৎ আনন্দিত এবং বিষন্ন হয়ে উঠলেন।
কারণ কর্ষণকাল উপস্হিত।
তাতে ভূমি শস্যশ্যামলা হয়ে উঠবে
বারিবর্ষণের মিলনে।
কিন্ত ধরণীকে সইতে হবে নিদারুণ কর্ষণযন্ত্রণা।
বৃক্ষকূল পুলকিত হয়ে আন্দোলিত হতে লাগলো মরুৎতাড়নে।
আর সৃষ্টি সিক্ত ও তৃপ্ত হল।
সূর্যদেব ধীরে ধীরে দিগন্তপানে ধাবিত হলেন।
সন্ধ্যা সমাসন্ন।
নবদম্পতি অশ্বারোহনপূর্বক গৃহাভিমুখে যাত্রা করলেন।
সামনে পড়ে আছে বসন্তরজনী তার রহস্যকূহক নিয়ে।
নগরের পথে পথে দীপবাহকগণ দীপস্তম্ভের শীর্ষে এক এক করে দীপ জ্বালাতে লাগলো।
নবদম্পতি উদ্যানগৃহে প্রবেশ করলেন।
আলোকিত তোরণ অতিক্রম করে শিক্ষিত অশ্বের গতি মন্দ হল।
সুরম্য অট্টালিকার আলোকিত উৎসবসজ্জায় নবদম্পতি হৃষ্ট হয়ে উঠলেন।
অশ্বপালক লাগাম ধরে দম্পতিকে
অবতরণে
সাহায্য করলেন।
♡♡♡♡♢♢♢♢♡♡♡♡
চতুর্থ সর্গ সমাপ্ত।
No comments:
Post a Comment